দ্য ওয়াল ব্যুরো: কম্বল হাতে পেয়েই মুখে হাসি ফুটে উঠল চুনি শবরের। আপাতমস্তক মুড়ি দিয়ে পঞ্চাশোর্ধ চুনি বলল, ‘‘বাবু হামাদের এখানে দমে শীত। কম্বলটাই গরম লাগবেক।’’
পাহাড়ের কোল ঘেঁষা গ্রাম বেলপাহাড়ির ডোমগড়, বাসকাটিয়া, সরিষাবাসা, জোড়ডাঙ্গা ও চাকাডোবা। চারদিকে জঙ্গলে মোড়া গ্রামগুলিতে তাই প্রতিবছরই তাপমাত্রার পারদ অনেকটাই নামে। জঙ্গল থেকে কাঠ, শুকনো পাতা সংগ্রহ করে আগুন জ্বালিয়েই চলে শীত নিবারণ। বলতে গেলে, শোয়েটার, কম্বলের ব্যবহারই নেই আদিবাসী সমাজে। আগুনের তাপে যেটুকু হিমেল হাওয়ার শিরশিরানি থেকে দূরে থাকা যায়, এমনটাই জানালেন শুকুরমনি হেমব্রম।
শীত পড়তেই তাই আদিবাসীদের মুখে হাসি ফোটাতে বেলপাহাড়ির আনাচ কানাচে পৌঁছে গেছে কলকাতার সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি 'আর্যভ'-এর সদস্যেরা। গ্রামে গ্রামে চলছে কম্বল বিলি। স্থানীয় স্তরে সমস্যা ও মাওবাদী তৎপরতা, দুই সমানে চলে বেলপাহাড়িতে। ডোমগড়, চাকাডোবার শবর গ্রামে এখনও অনাহারের ছবি স্পষ্ট। উন্নয়ন থেকে অনেকটাই দূরে এখানকার আদিবাসীদের দু’বেলা ভাত যোগাতে নাভিশ্বাস ওঠে। কম্বল বিতরণী অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা সমাজকর্মী তনুকা সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, দুঃস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানোটাই উদ্দেশ্য। পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা গ্রামগুলিতে শীতে খুবই কষ্ট পান এখানকার আদিবাসীরা। তাঁদের এই উদ্যোগে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যেরাও। সমাজকর্মীদের সঙ্গে হাত হাত মিলিয়ে কম্বল বিলি করেছেন বেলপাহাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তথা শিক্ষক বিকাশ সর্দার, শিক্ষক উত্তম বিশ্বাস ও সোমনাথ দত্তরা।
'আর্যভ' এর সম্পাদক চিরঞ্জীব গোস্বামীর কথায়, ‘‘যাঁদের কাছে একটি কম্বল শীতের জন্য খুবই প্রয়োজন, আমরা সেই সব দুঃস্থ মানুষের হাতে ১০০টি কম্বল তুলে দিলাম। আগামী দিনেও তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’’ বিশিষ্ট অভিনেতা তথা 'আর্যভ' এর সভাপতি সব্যসাচী চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমাদের সদস্যরা ঝাড়গ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছেন তাতেই আমি খুশি।’’