
শেষ আপডেট: 17 November 2019 12:13
জানুয়ারি মাসের দু’তারিখ থেকে শুরু ২০২০র জঙ্গলমহল উৎসব। সেই উৎসব আবার কুমুদ কুমারী ইনস্টিটিউশনের মাঠে হবে জানতে পেরেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে যেমন সামিল এলাকার সাধারণ মানুষ, তেমন স্কুলের প্রাক্তনীরাও। তাঁদের বক্তব্য, স্কুল প্রাঙ্গণে যদি মেলা করার ব্যবস্থা, তাহলে কেন ৩৩ লক্ষ টাকা খরচ করে মাঠ সারানো হল?
স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররা এবং ঝাড়গ্রাম নাগরিক উদ্যোগের সদস্যরা শনিবার বিকেলে স্কুলের গেটের সামনে জমায়েত হয়ে প্রতিবাদ জানান। উপস্থিত স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সন্দীপ করণ, মানস বেজ, প্রতীক মৈত্ররা বলেন, ‘‘জঙ্গলমহল উৎসব খুবই ভালো লাগে আমাদের। আমরা এই উৎসবের বিরোধিতা করছি না। ঝাড়গ্রাম শহরের বুকে আরও অনেক মাঠ রয়েছে। সেই মাঠে জঙ্গলমহল উৎসব হলে কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু এই স্কুলের মাঠে আবার জঙ্গলমহল উৎসব হলে এত সুন্দর মাঠটি শেষ হয়ে যাবে।’’ এরপরেই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন মান্না জানান, স্কুলের মাঠে আর জঙ্গলমহল উৎসব হবে না বলে প্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গলমহল উৎসবের জন্য অন্য মাঠ দেখা হচ্ছে। এরপরেই খুশিতে মেতে উঠেন স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররা এবং ঝাড়গ্রাম নাগরিক উদ্যোগের সদস্যরা ।
কিছুদিন আগে জঙ্গলমহল উৎসব নিয়ে ঝাড়গ্রামে বৈঠক করতে এসেছিলেন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, কুমুদ কুমারী ইনস্টিটিউশনের মাঠেই জঙ্গলমহল উৎসব হবে এবং উৎসবের শেষে পুনরায় মাঠটি মেরামত করে দেওয়া হবে। মেলার জন্য প্রায় ছয় কোটি টাকার বাজেটও করা হয়। কিন্তু মাঠ নিয়ে ঝাড়গ্রামের নাগরিক সমাজে প্রতিবাদের ঝড় ওঠাতেই সিদ্ধান্ত বদল বলে মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহল। কারণ কিছুদিনের মধ্যেই ঝাড়গ্রাম পুরসভার নির্বাচন।
শনিবারই ঝাড়গ্রাম সদর মহকুমা শাসক সুবর্ণ রায় ঝাড়গ্রাম শহরের মধ্যে কিছু মাঠ পরিদর্শন করেন। জানা গেছে, আইটিআই কলেজের মাঠ এবং ঝাড়গ্রাম পুরসভার মাঠ এবং ননীবালা বিদ্যালয়ের হস্টেল মাঠ পরিদর্শন করেন তিনি। ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আয়েশারানি এ বলেন, ‘‘ওই স্কুলের মাঠে এ বার আর জঙ্গলমহল উৎসব হচ্ছে না। বিকল্প মাঠ দেখা হচ্ছে।’’
তাই কোন মাঠে জঙ্গলমহল উৎসব হবে এটা এখনও স্পষ্ট না হলেও কুমুদ কুমারী ইনস্টিটিউশনের মাঠে যে আর জঙ্গলমহল উৎসব হচ্ছে না এটা পরিষ্কার।