রাজগঞ্জে গণধর্ষণ ও খুন, কিশোরীকে অপহরণ এবং ধর্ষকদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন দুয়েক আগেই রাজগঞ্জে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় ফের নয়া অভিযোগ উঠল। নিহত কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, তৃণমূলের পঞ্চায়ের সদস্য ছলিমুদ্দিন মহম্মদ এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের তার বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিল। নাবালিকাকে তার
শেষ আপডেট: 23 August 2020 13:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন দুয়েক আগেই রাজগঞ্জে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় ফের নয়া অভিযোগ উঠল। নিহত কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, তৃণমূলের পঞ্চায়ের সদস্য ছলিমুদ্দিন মহম্মদ এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের তার বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিল। নাবালিকাকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়েই লুকিয়ে রেখেছিল বলেও দাবি করেছে পরিবার।
ইতিমধ্যেই ওই নেতার তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু এখনও গ্রেফতার করা হয়নি তাকে। নাবালিকার বাবা রফিকুল ইসলামের দাবি, শাসকদলের আশ্রিত বলেই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে না।
জলপাইগুড়ি বিজেপির জেলা নেতৃত্ব এবং যুব ও মহিলা মোর্চার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এদিন ওই নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপি রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক দীপেন প্রামাণিক। অবিলম্বে ছলিমুদ্দিনকে গ্রেফতারের দাবি তোলেন তাঁরাও।
দীপেন প্রামাণিকের বক্তব্য, ছলিমুদ্দিন মহম্মদ সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা মদ ও গাঁজা-সহ বিভিন্ন নেশার সামগ্রীর অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত। এখনও গ্রেফতার হয়নি ঐ তৃণমূল পঞ্চায়েতের সদস্য। এই ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলে অভিযুক্ত সবাইকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন খুব শীঘ্রই নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসছে বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
এই ঘটনায় তৃণমূলের মুখপাত্র তথা জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি দুলাল দেবনাথ টেলিফোনে জানান, পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলে আমাদের বিধায়ক খগেশ্বর রায় ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন। আমরা ঘটনাটি প্রশাসনের সর্বোচ্চ জায়গায় জানিয়েছি। পুলিশ নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের ওপর আমাদের আস্থা আছে। তারা নিশ্চয় সঠিক তদন্ত করবে। তৃণমূলের কোনও প্রভাবশালী নেতা যদি এই বর্বরোচিত কাজের সাথে যুক্ত থাকে কাউকে রেয়াৎ করা হবে না বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত ১০ তারিখ সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয়ে যায় রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার লালস্কুল পাড়া গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ১৬ বছরের মেয়েটির খোঁজ না মেলায় পরের দিন অর্থাৎ ১১ তারিখ রাজগঞ্জ থানায় নিখোঁজ ডায়রি দায়ের করে তার পরিবার।
শেষমেশ রাজগঞ্জের প্রধানপাড়ার একটি সেফটি ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হয়েছে কিশোরীর দেহ। পরিবারের অভিযোগ, গণধর্ষন করে দেহ লোপাটের চেষ্টা করেছে অভিযুক্তরা। তদন্তে নেমে ওই মেয়েটির মায়ের মোবাইলে কিছু সন্দেহজনক অডিও টেপ পায় পুলিশ। সেই ভিত্তিতেই ধরা পড়েছে তিন জন।
তিন অভিযুক্তের ৮ দিনের পুলিশ হেফাজত হয়েছে। ঘটনার তদন্তকারী অফিসার দেবাশিস পালকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার বদলে সিআই-কে ঘটনার তদন্ত শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব।