
শেষ আপডেট: 15 October 2018 18:30
দেখা গেল, তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদরা তাই করেছেন। বিক্ষিপ্ত ভাবে বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বা রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি ও ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায় বাংলায় পুজো উদ্বোধন করলেও,শাসক দলের প্রভাবই কাজ করেছে ষোলআনা। উত্তর কলকাতায় সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ তথা রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে জেলায় জেলায় শাসক দলের সব এমপি-ই নিজের এলাকায় ষষ্ঠী পর্যন্ত পুজো উদ্বোধন চালিয়ে গিয়েছেন। বিধায়করাও যথাসাধ্য নিজের এলাকায় থেকেছেন।
কিন্তু একমাত্র পরিবেশ ও পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুজো উদ্বোধনে ছুটে বেরিয়েছেন সল্টলেক থেকে মুর্শিদাবাদ। উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের ৬টি জেলা ঘুরে ৬৫টিরও বেশি পুজো উদ্বোধন করেছেন মমতা মন্ত্রিসভার এই সদস্য।
প্রসঙ্গত, আগে তিন জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন শুভেন্দু, মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর। সম্প্রতি কোর কমিটির বৈঠকে মমতা ঘোষণা করে দেন, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়াও দেখতে হবে তাঁকে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ হল, তৃণমূলের আর কোনও জেলা পর্যবেক্ষক এ ভাবে কয়েক হাজার কিলোমিটার গাড়ি উজিয়ে পুজো উদ্বোধন করেননি। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী যেমন কলকাতার বাইরে যাননি, তেমনি দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁর নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের পুজো ছেড়ে বিশেষ বেরোননি। তিনি নদিয়ার পর্যবেক্ষক। কিন্তু এক দিন কল্যাণী ও নৈহাটিতে পুজো উদ্বোধনে যাওয়া ছাড়া আর বেরোননি। যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও কোচবিহারের পর্যবেক্ষক। কিন্তু তিনিও ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। একই ভাবে অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিমের মতো জেলা পর্যবেক্ষকরাও কলকাতার বাইরে বিশেষ যাননি। তাঁরাও নিজেদের পুজো নিয়েই ব্যস্ত।
মমতা ঘনিষ্ঠ দলের এক নেতার কথায়, এক সময় মুকুল রায় জেলার বাইরে পুজো উদ্বোধনে যেতেন। আর যাই হোক মুকুল রায় এর নেপথ্য রাজনীতিটা বুঝতেন। মানুষের পাশে থাকার রাজনীতিটা ভাল রপ্ত করে নিয়েছেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নেতা শুভেন্দুও। পুরোপুরি দিদি-র মতো না হলেও, অনেকটাই তাঁর মতো!