কাঞ্চনজঙ্ঘা থেকে ফিরে বাবা মাকে নিয়ে হিমাচলে যাওয়ার কথা বলে গেছিল কুন্তল
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া : বুধবার সকালে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার (৮,৫৮৬ মিটার) শীর্ষে আরোহণ করেছিলেন চার বাঙালি। কিন্তু শৃঙ্গ ছুঁতে পারেননি অভিযাত্রী দলের অন্যতম সদস্য কুন্তল কাঁড়ার। সামিট করতে যাওয়ার সময়েই দেহের তাপমাত্রা অস
শেষ আপডেট: 16 May 2019 07:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া : বুধবার সকালে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার (৮,৫৮৬ মিটার) শীর্ষে আরোহণ করেছিলেন চার বাঙালি। কিন্তু শৃঙ্গ ছুঁতে পারেননি অভিযাত্রী দলের অন্যতম সদস্য কুন্তল কাঁড়ার। সামিট করতে যাওয়ার সময়েই দেহের তাপমাত্রা অসম্ভব কমে গিয়েছিল তাঁর। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এই খবর আসার পর থেকেই উদ্বেগের প্রহর গুনছে তাঁর পরিবার। আশঙ্কার মেঘ মধ্য হাওড়ার কদমতলার অন্নপূর্ণা ক্লাব সংলগ্ন কুন্তলের পাড়াতেও। কুন্তলের সঙ্গেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় এ দিন নীচে নামিয়ে আনার চেষ্টা শুরু হয় অন্য অভিযাত্রী পূর্ব কলকাতার মাদুরদহের বাসিন্দা বিপ্লব বৈদ্যকেও। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
হাওড়ার কদমতলার বাড়িতে রয়েছেন কুন্তলের বাবা মা ও দাদা বৌদি। ছেলের ভয়ানক বিপদের খবর আসতেই শয্যা নিয়েছেন তাঁর মা। চোখের জলে ভাসছেন বাবাও। আদৌ কি বাড়ি ফিরবে ছেলে? সেই আশঙ্কাই গ্রাস করেছে বৃদ্ধ দম্পতিকে।

গত ৪ এপ্রিল কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে গিয়েছিলেন ৪৩ বছরের কুন্তল কাঁড়ার। সোনারপুর আরোহী ক্লাবের বিপ্লব বৈদ্য, রুদ্রপ্রসাদ হালদার, হৃদয়পুরের বাসিন্দা এবং মাউন্টেন কোয়েস্ট ক্লাবের সদস্য রমেশ রায় এবং ইছাপুরের শেখ সাহাবুদ্দিন সামিল ছিলেন এই অভিযানে। সঙ্গে ছিলেন পুর্বা, মিংমা, দাওয়া তেম্বা, দাওয়া সিরিং এবং দাওয়া নামের পাঁচ জন দক্ষ শেরপা। এভারেস্ট বিজয়ী কুন্তল যে এই অভিযানে গিয়ে এমন বিপদের মুখে পড়বেন তা ভাবতে পারেনি বাবা চণ্ডীচরণ কাঁড়ার।
এই অভিযান শেষ করে বাড়ি ফিরেই বাবা মা কে হিমাচল প্রদেশে নিয়ে যাবেন বলে কথা দিয়েছিলেন কুন্তল। বারবার চোখ মুছতে মুছেতে সেই প্রসঙ্গই টেনে আনছিলেন চণ্ডীবাবু। বলছিলেন, “এ বার ফিরেই আমাকে আর ওর মাকে নিয়ে হিমাচলে যাওয়ার কথা ছিল কুন্তলের। আর বোধহয় হল না।”ছেলেকে যে পাহাড় চড়ার নেশা তিনিই ধরিয়েছিলেন, বলছিলেন সে কথাও। “আমি স্কাউট করতাম। সেখানে মাউন্টেনিয়ারিং ও ছিল। কুন্তলের মনে এই যে পাহাড়ের উপর টান, তা তো আমার জন্যই। আমিই তো বরাবর ওকে উৎসাহ দিয়েছি। এমন হবে ভাবিনি তো।
”
চরম বিপদের মুখে পড়া আরেক অভিযাত্রী বিপ্লব বৈদ্যের বাড়ি পূর্ব কলকাতার মাদুরদহ অঞ্চলে। তাঁর স্ত্রী রেখা বৈদ্য আজ কাঠমান্ডুর পথে রওনা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।