
শেষ আপডেট: 14 November 2018 18:30
তৃণমূলের একটি সূত্রের মতে, বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরতে শুরু করে। কারণ এক, মুখ্যমন্ত্রী জঙ্গলমহলে পরিকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তার পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীকে জঙ্গলমহলের তিন জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে সেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মানুষের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাতে যে কাজ হয়েছিল তা তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম ও কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী জয়রাম রমেশ বারবার স্বীকার করেছেন।
কিন্তু পরবর্তী কালে শুভেন্দুকে ওই তিন জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন মমতা। সম্ভবত তা হয়েছিল তৃণমূলের তৎকালীন সেকেন্ড ইন কম্যান্ড মুকুল রায়ের পরামর্শে। তা ছাড়া স্থানীয় তৃণমূল নেতারাও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার পরিবর্তে অনেকেই আখের গুছোতে নেমে পড়েন। ফলে এলাকায় অসন্তোষ বাড়তে থাকে। ক্ষোভ বাড়তে থাকে শ্রীকান্ত মাহাতোর মতো তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধেও। এই পরিস্থিতিরই সুযোগ নিয়েছে মাওবাদীরা। তৃণমূলের অভিযোগ তাতে বিজেপি ও আরএসএসেরও মদত রয়েছে। মূলত এই কারণে এ বার পঞ্চায়েত ভোট জঙ্গলমহলে তৃণমূলের বিপর্যয় হয়েছে। তুলনায় ভাল ফল করেছে বিজেপি।
আরও পড়ুন: উনিশে অধীরকে পরাস্ত করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিলেন শুভেন্দু
পঞ্চায়েত ভোটে জঙ্গলমহলে তৃণমূলের ফল খারাপ হওয়ার পর ফের পশ্চিম মেদিনীপুরের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব এখন শুভেন্দুকে দিয়েছেন মমতা। শাসকদলের নেতাদের মতে, তাতে কিছুটা প্রমাদও গুণছে মাওবাদীরা। হতে পারে শুভেন্দু ও তৃণমূল নেতৃত্বকে ভয় পাইয়ে দিতেই পোস্টার ফেলা শুরু করেছে তারা। তবে পুলিশ ও প্রশাসনকে দিয়ে ও রাজনৈতিক ভাবে, এই দুই পদ্ধতিতেই মাওবাদী দমন করে জঙ্গলমহলে শান্তি কায়েম রাখার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর সরকার।