দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: রুগ্ন চেহারা। শরীর জুড়ে অপুষ্টির ছাপ। বছর দেড়েকের এই শিশুকে কোলে নিয়েই শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত দৌড়োচ্ছেন বাবা। মুখে এক বুলি, ‘‘৫০,০০০ হাজার টাকায় বিক্রি করব। আমার ছেলেকে কিনবেন?’’
ষষ্ঠীর সকালে বোধনের ঢাক বাজছে। এই সময় ওদলাবাড়ির পথে শিশু কোলে এক বাবার এমন স্লোগান শুনে থমকে গেলেন পথ চলতি মানুষ। কেউ বিস্ময়ে চমকে উঠলেন, কেউবা পাগল ঠাওরে নিজের পথ ধরলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এক পানের দোকানের কর্মচারী জানালেন, তাঁর কাছেও এমন প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন ওই ব্যক্তি। দোকানির নাম বিকাশ রায়। এমন কথা শুনে চমকে উঠে তিনি খবর দেন স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের। ‘ম্যাস’ নামে ওই সংগঠনের কর্মীরা এসে উদ্ধার করে শিশুটিকে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বছর চল্লিশের ওই ব্যক্তির নাম বিশ্বনাথ ওঁরাও। বাড়ি ওদলাবাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে কৈলাসপুর চা বাগানে। পেশায় চা শ্রমিক বিশ্বনাথের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। অভাবে সংসার। নুন আনতে পান্তা ফোরায়। তার উপর গত কয়েক বছর ধরে মদের নেশাও পেয়ে বসেছিল তাঁকে। নেশার খরচ জোগাতে জুয়া খেলাও শুরু করেছিলেন বিশ্বনাথ। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, নেশার চোটে বাড়ির ঘটি বাটিও বিক্রি করা শুরু করেছিলেন তিনি। শেষে নিজের ছেলেকে বিক্রি করতে যান।
সংগঠনটির অন্যতম কর্ণধার নফসর আলির কথায়, সকালে নিজের অফিসে বসে কাজ করছিলেন তিনি। সেই সময় জনা কয়েক লোক এসে তাঁকে খবর দেন এক ব্যক্তি তাঁর নিজের ছেলেকে বিক্রি করার জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই লোকদের মধ্যে পানের দোকানি বিকাশবাবুও ছিলেন। খবর পেয়েই আর স্থির থাকতে পারেননি তিনি। সংগঠনের কয়েকজনকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।
অনেক খুঁজে পেতে দেখা যায়, ওদলাবাড়ি বাজারের কাছে একটি মিষ্টির দোকানের সামনে ছেলে কোলে বসে রয়েছেন বিশ্বনাথ। তাঁকে হাতে নাতে ধরতে ক্রেতা সেজে যান তিনি। ছেলে কেনার জন্য শুরু হয় দরদাম। ঘটনা দেখতে তখন মিষ্টির দোকানের সামনে ছোটখাটো একটা ভিড় জমে গেছে। শেষে, নিজের পরিচয় দিয়ে ছেলে-সহ বিশ্বনাথকে পাঠান ওদলাবাড়ির বেবি কেয়ার সেন্টারে। সেখানেই শিশুটির চিকিৎসা শুরু হয়েছে।