দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া : নিজের জেলায় চলার পথে বরাবরই তিনি পাচনের বাড়িতে বিশ্বাসী। জমি শক্ত থাকলেই, তা উর্বর করতে পাচনের বাড়ি দেওয়ার জন্য বারবারই দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করেন তিনি। এ বার পাশের জেলা নদিয়াতেও একই দাওয়াই দিলেন অনুব্রত মণ্ডল।
কিছুদিন আগে নদিয়া জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পেয়েছেন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। এরপরে গতকাল, সোমবার প্রথমবার তেহট্টের দেবনাথপুরে জেলার ছোট-বড়-মাঝারি সমস্ত নেতাদের নিয়ে বৈঠক করলেন তিনি। রীতিমতো শিক্ষকের কায়দায় বুঝিয়ে দিলেন, জেলায় তৃণমূলের মাটি শক্ত করতে কী কী করতে হবে দলের কর্মীদের। তার আগে অবশ্য এক এক করে অঞ্চল সভাপতি, বুথ সভাপতিদের সঙ্গে কথা বলে বিধানসভা, পঞ্চায়েত ভোটের বুথ ভিত্তিক ফলাফল জানতে চান তিনি।
সে সব জেনেটেনেই তাঁর উপলব্ধি, “এখানকার কর্মীরা খুব ভালো। আমাদের নেতাদের কিছু ভুল আছে। জেলায় সাংগঠনিক কিছু সমস্যাও আছে। তবে এক মাসের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।” দলের জেলা সভাপতি গৌরীশংকর দত্ত, জেলার দুই মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, রত্না ঘোষও এই বৈঠকে হাজির ছিলেন।
দলের সাংগঠনিক ত্রুটি, সমস্যা সমস্ত কিছু একমাসে সমাধান করে ফেলবেন দলের কর্মীদের সামনে এই আত্মবিশ্বাস দেখানোর পরেই আগামীতে তাঁদের কাজের ধারাও নির্ধারিত করে দেন। জানিয়ে দেন, লোকসভা ভোটে প্রত্যেক বিধানসভায় ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে লিড নিতে হবে। এরজন্য মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে হবে। প্রতিমাসে নিয়ম করে অঞ্চল ভিত্তিক, বুথ ভিত্তিক সভা করারও পরামর্শ দেন।
এরপরেই এ জেলাতেও পাচনের নিদান তুলে ধরেন। বলেন, “যেখানে দরকার সেখানে পাচন দেবে। পাচন না দিলে উর্বর জমি চাষ হয় না। শক্ত জমি থাকলে পাচনের বাড়ি দিতেই হবে।”
তিনি বীরভূমের ভূমিপুত্র। সে জেলায় তাঁর নামে বাঘে গরুতে একঘাটে জল খায়। তাও বিরোধীদের মাথা তোলার সামান্য ইঙ্গিত পেয়েই গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর পাচন তত্ত্ব সামনে এনেছিলেন অনুব্রত। তারপর বারেবারেই সংগঠন চাঙ্গা করতে দরকার হলেই পাচনের বাড়ি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এতদিন সে সব পুরোটাই ছিল তাঁর নিজের জেলায়। এ বার পাচনের বাড়ি ভিন জেলাতেও।