দীপেন্দুর মায়ের শ্রাদ্ধ, নিমন্ত্রণ পত্র জাল করে শ্রীঘরে তৃণমূল কর্মী
বিমল বসু, বসিরহাট: শিশু দিবসে শিশু সুলভ দুষ্টুমি করে গ্রেফতার হল বসিরহাটের এক তৃণমূল কর্মী ! যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শিশু না ছাই, আসলে সব বদমায়েশি।
হাতে হাতকড়া পরেও ধৃত উৎপল বিশ্বাস কিন্তু নির্বিকার। বলছেন, “ও মা! আমার সঙ্গে যে বন
শেষ আপডেট: 14 November 2018 12:28
বিমল বসু, বসিরহাট: শিশু দিবসে শিশু সুলভ দুষ্টুমি করে গ্রেফতার হল বসিরহাটের এক তৃণমূল কর্মী ! যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শিশু না ছাই, আসলে সব বদমায়েশি।
হাতে হাতকড়া পরেও ধৃত উৎপল বিশ্বাস কিন্তু নির্বিকার। বলছেন, “ও মা! আমার সঙ্গে যে বন্ধুরা শ্মশানে পোড়াতে গিয়েছিল তাদের নেমন্তন্ন করেছি। অন্যায় কী করেছি!”
ভাবতে বসলেন তো ! কে-কাকে-কখন দাহ করতে গেলেন?
তার সঙ্গে হাতে হাতকড়ারই বা সম্পর্ক কী ?
উৎপলের বাড়ি বসিরহাটের ট্যাকড়া এলাকায়। এমনিতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই এলাকায় নোট জাল,
পরিচয়পত্র জাল,
শংসাপত্র জাল আকছার শোনা যায়। কিন্তু উৎপল শ্রীঘরে গিয়েছে জাল নেমন্তন্ন পত্র ছাপিয়ে। গোটা চাকরি জীবনে এমনটা না কি দেখেননি দুঁদে পুলিশ কর্মীরাও। আবার যাঁর তাঁর নামে নয়,
বিধায়কের নামে নেমন্তন্নের কার্ড ছাপিয়েছেন বসিরহাট কলেজের এই প্রাক্তন টিএমসিপি কর্মী।
বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাস। প্রাক্তন ফুটবলার। গত ৪ নভেম্বর মৃত্যু হয়েছে দীপেন্দুর মা লীলা বিশ্বাসের। শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের পরে আগামীকাল,
বৃহস্পতিবার নিয়মভঙ্গ। বসিরহাটের বিদ্যুৎ সংঘের মাঠে। বিধায়কের পরিচিতির গণ্ডি বিশাল। তাই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রায় তিন হাজার মানুষ। দীপেন্দু জানান,
হঠাৎই ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের কাছে জানতে পারেন একজন তাঁর নাম লেখা নিমন্ত্রণপত্র জাল করে বহু মানুষকে নেমন্তন্ন করছেন। এরপরেই পুলিশকে জানান তাঁরা। গ্রেফতার করা হয় উৎপল বিশ্বাস নামে ওই ব্যক্তিকে।
আজ বসিরহাট আদালতে তোলা হয় ধৃতকে। কেন এমন কাজ করলেন তিনি?
বারবার প্রশ্ন করা হলে নিরুত্তর থাকারই চেষ্টা করেন। একসময় বলেন, “
শ্মশানে তো গিয়েছিলাম। আমার অনেক বন্ধুরাও গিয়েছিল। তাই ওদের নেমন্তন্ন করেছি।”
বন্ধুদের নেমন্তন্ন করার এই খবরে অবশ্য চিন্তার ভাঁজ বিধায়কের কপালে। “ বুঝতে পারছি না ঠিক কত জনকে নেমন্তন্ন করেছে। খাবারের পরিমাণ বাড়াতে বলে দিয়েছি। না হলে তো কম পড়ে যাবে।”
নিয়মভঙ্গের মেনুতে আরও অনেক কিছুর সঙ্গে রয়েছে দই কাতলা,
ভেটকি পাতুরি,
চিংড়ি মালাইকারি। দীপেন্দুর মায়ের পছন্দের এগ ফামিন্দাও রয়েছে মেনুতে। বাড়তি অতিথির আগমনে যদি কম পড়ে যায় খাবারে আগেভাগেই তৎপর হয়েছেন বিধায়ক।
আর এই পুরো পর্বে বসিরহাটের এক পুলিশ কর্তা বলছেন, “
সীমান্তে এত ডিউটি করেছি। নোট জাল,
সই জাল,
ভোটার কার্ড জাল সবই দেখেছি। তাই বলে নিমন্ত্রণ পত্র জাল। এই জীবনে আর কত দেখবো?”