দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ ফিরিয়ে নেওয়া পরিযায়ীদের ভিড় এ বার সাঁতরাগাছি পাখিরালয়ে। গতবারের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। গণনার পর দেখা গেছে, গতবার সবমিলিয়ে ঝিলে ছিল ৮০০ পাখির ভিড়। এ বার সেই সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি।
সাঁতরাগাছি পাখিরালয় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার এই নিয়ে বারে বারেই উঠেছে প্রশ্ন। যার জেরে অযত্ন আর অবহেলায় কয়েকশো একরের ঝিলটি হয়ে দাঁড়িয়েছিল স্রেফ রেল ও এলাকার বাসিন্দাদের আবর্জনা ফেলার জায়গা। গোটা ঝিল ভরে উঠেছিল কচুরিপানায়।
জাতীয় পরিবেশ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, সাঁতরাগাছি পাখিরালয়ের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হাওড়া পুরসভার। কিন্তু, বাস্তবে দেখা যায় গত বছর ঝিল পরিষ্কারের কাজে হাত দিলেও এ বার গোটা ঝিল পানায় ভরে গেলেও তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেনি তারা। পুর প্রশাসন দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ঝিল পরিষ্কারে এগিয়ে আসেন একাধিক বেসরকারি সংস্থা, কলেজপড়ুয়া ও সাধারণ মানুষ। কারণ, আবর্জনা আর কচুরিপানায় ভরা ওই ঝিলে এ বছর পরিযায়ী পাখিরা আগের মতো আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। প্রতি বছরই দেখা যায়, হাজার হাজার মাইল পাড়ি দেওয়া ওই পাখিরা কালীপুজোর পর থেকেই ঝিলে আসতে শুরু করে। তবে গত বছর সংখ্যাটা ছিল অনেক কম।
সাঁতরাগাছি ঝিল মূলত দক্ষিণ-পূর্ব রেলের এলাকায়। স্থানীয় ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, পরিযায়ী পাখিদের পছন্দের জায়গা এই সাঁতরাগাছির ঝিলটি দীর্ঘদিন ধরেই রেলের দূষিত বর্জ্য ও পুরসভার নর্দমার বর্জ্যে ভরে উঠেছে। জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশের পরেও দায় এড়িয়ে গেছে পুর প্রশাসন। এ বছর তাই নভেম্বরের গোড়াতেই ঝিল পরিষ্কারের কাজে এগিয়ে আসে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষজন। উদ্যোগ নেয় হাওড়া সিটি পুলিশও। কচুরিপানা সব না তুলে তৈরি করা হয় আইল্যান্ড। আর শীত পড়তে সেখানেই এসে ভিড় জমাতে শুরু করে সাইবেরিয়ার নর্দান পিনটেল, গেডওয়াল ফেরুজিনার মতো পাখি। হিমালয়ের পাদদেশ ও দেশের অন্যান্য জায়গা থেকেও এসেছে পাখির দল। ‘প্রকৃতি সংসদ’-এর হিসাব বলছে চলতি বছর প্রায় ষোলো প্রজাতির পরিযায়ী পাখি ভিড় জমিয়েছে পাখিরালয়ে।
সংসদের সভাপতি কুশল মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘যেভাবে জলাভূমি ভরে যাচ্ছে, তা খুবই উদ্বেগের। এই অবস্থায় পাখিদের বাসস্থান খাবার সব কিছু নিয়ে আরও গুরত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।’’