দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহ ঘুরতে চলল তাঁকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এর মধ্যেই ‘বোধোদয়’ হলো বোলপুরের বহিষ্কৃত সাংসদ অনুপম হাজরার। সোমবার অনুপম টুইট করেছেন। বলেছেন, তিনি এ বার রাজনীতির ট্রেন্ড পাল্টাতে চান। ভয়ের পরিবেশ উড়িয়ে, ভালবাসার আলিঙ্গনে সবাইকে জড়িয়ে নিতে চান অধ্যাপক সাংসদ। এবং সেই দীর্ঘ মেয়াদের জন্য করারই ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
এ দিন অনুপম টুইটে লিখেছেন, জেলার ছোট-বড়-মাঝারি নেতা গত দু'তিনদিনে তাঁকে অনেক কথা বলেছেন। তাঁদের মধ্যে আবার কেউ কেউ 'কাকু ঘনিষ্ঠ' বলেও জানিয়েছেন অনুপম। প্রসঙ্গত, বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে কাকু বলেই সম্বোধন করেন অনুপম। তাঁর দাবি, ওই নেতারা তাঁকে বলেছেন, বোলপুরে অনেকে ভয়ে তৃণমূলে রয়েছেন। তাঁরা কেউ তৃণমূল করেন না। সেই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করে 'বিতর্কিত' সাংসদ লিখেছেন ভয়ের রাজনীতি দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা ক্ষণস্থায়ী। ভালোবেসে রাজনীতি করলে সেটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
সোমবার অনুপমের এই টুইট-এর সারমর্ম বোঝার জন্য তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, "সন্ত্রাসের রাজনীতি চলছে। যাঁরা করছেন, তাঁরা চাপে পড়ে করছেন। ভয় পেয়ে তৃণমূল করছেন। কেউ ভালবেসে তৃণমূল করছেন না।"
রবিবার দ্য ওয়াল-কে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "দিদিকে মিস করছি।" অভিযোগের সুরে বলেছিলেন, তাঁকে অনুমানের ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হয়েছে। এবং গোটাটার পিছনে কল কাঠি নেড়েছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে এ-ও জানিয়েছিলেন, দিদি প্রচারে যেতে বললে, তিনি যাবেন।
এখন প্রশ্ন হল, অনুপম বীরভূমে রাজনীতি করবেন তাও আবার ভালবাসা দিয়ে? ট্রেন্ড বদলানো কি মামুলি ব্যাপার? বড় কথা হল, অনুব্রত মণ্ডল যখন পাচনের রাজনীতির কথা বলছেন, তখন মারের মুখে অহিংস রাজনীতি দাঁড়াতে পারবে তো?
তৃণমূলের এক জেলার নেতার কথায়, "অনুপম বাচ্চা ছেলে। ওঁর বোধ নেই। এখানে কেষ্টদার বিরুদ্ধে লড়াই করা মানে, জলে থেকে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করার সমান।" পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলার বেশ কিছু জেলা আছে, যেখানকার রাজনৈতিক ঐতিহ্য পেশি শক্তি। একটা সময় রামচন্দ্র ডোম, মনসা হাঁসদারা সেই রাজনীতি কন্ট্রোল করতেন। এখন অনুব্রত মণ্ডল করেন। মুখ বদলেছে কিন্তু ট্রেন্ড বদলায়নি।
যদিও অনুপমের দাবি, ভালবাসা দিয়ে দুনিয়া জয় করা যায়। হিংসার রাজনীতিকেও ঠেকানো যাবে গান্ধীগিরি দিয়ে।
অনুপমের এ দিনের টুইট দেখে অনেকে বলছেন, বহিষ্কারের পর বোধোদয় হয়েছে। জেলার এক সিপিএম নেতা বলেন, "পঞ্চায়েতে যখন জেলা পরিষদেও সব আসন বিনাপ্রতিদ্বন্দীতায় জিতে নিল তাঁর দল, তখনও তো এসব শোনা যায়নি। এখন কাঁদুনি গাইছে।"