দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপনির্বাচনের হাফটাইমেই বিজেপি রাজ্যসভাপতি দাবি করলেন, করিমপুর বিধানসভায় হারছে তৃণমূল। সেই ভয়েই তাঁদের প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদারের উপর হামলা চালিয়েছে শাসকদলের দুষ্কৃতীরা।
আশঙ্কা ছিলই। আর সোমবার ভোট শুরুর আগে থেকেই সেটা সত্যি হতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তে থাকে অশান্তি। বাংলার তিন বিধানসভার উপনির্বাচনও শান্তিতে হল না। উত্তেজনা, সংঘর্ষ, হিংসায় সবার উপরে উঠে এল নদিয়ার করিমপুর কেন্দ্র। বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদারকে ঝোপের মধ্যে ঢুকিয়ে পেটানো হল। আর এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় খড়্গপুরে বসে বিজেপি রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ বলে দিলেন, “তৃণমূল হারছে। তাই জয়প্রকাশদার উপর এই হামলা।”
দিলীপবাবু খড়্গপুরে বসে সেখানকার উপনির্বাচন পরিচালনা করছেন। কিন্তু তিন কেন্দ্রেরই খবর যাচ্ছে তাঁর কাছে। দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ তিনি বলেন, “খড়্গপুরে অল্পবিস্তর গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল। পুলিশও ওদের হয়ে কাজ করছে। কালিয়াগঞ্জ মোটামুটি শান্ত। কিন্তু মূল লড়াই করিমপুরে। ওখানে তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। জয়প্রকাশদাকে যে ভাবে মারা হল তাতে এটা পরিষ্কার, করিমপুরে ওরা হারছে।”
মেদিনীপুরের সাংসদ আরও বলেন, “তিনটে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলার সরকারের স্বরূপ আরও একবার মানুষের সামনে চলে এল। লুঙ্গি পরা সমাজবিরোধীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। কোথায় গণতন্ত্র! কোথায় সংবিধান! কোথায় আইনকানুন!”
বিজেপি নেতা মুকুল রায়ও বলেন, “বাংলার শাসকদল জনমতকে ভয় পাচ্ছে বলেই বিজেপি প্রার্থীর উপর হামলা করছে। সারা দেশে ভোটের দিন এমন ঘটনা কোথাও হয় না।” করিমপুরের ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও লিখেছেন তিনি।
[caption id="attachment_161996" align="aligncenter" width="416"]

কমিশনকে লেখা মুকুল রায়ের চিঠি[/caption]
অনেকের মতে তিন কেন্দ্রের মধ্যে করিমপুরের ভোট সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে অনেক রাজনৈতিক প্যাঁচ রয়েছে। লোকসভার নিরিখে তৃণমূল ১৪ হাজার ভোটে এই কেন্দ্রে এগিয়ে থাকলেও পর্যবেক্ষকদের মতে, বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী নিয়ে শাসক দলের চিন্তার ভাঁজ পড়ে গিয়েছে। তাঁদের ধারণা, সিপিএম প্রার্থী যদি সত্যি সত্যি তৃণমূলের আধিপত্যে থাকা সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসায়, তাহলে বিজেপির জন্য তা সাপে বর হবে।
তবে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করেও সকাল থেকে যে ভাবে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এল, তা দেখে অনেকেই বলছেন বাংলার ছবিটা বোধহয় কোনও দিনই বদলাবে না!