রাজ্যে ক'দিনের দুর্যোগে শুধু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই মারা গেছেন ১৩ জন! চিন্তায় সরকার
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টিতে (Rain) জেরবার গোটা দক্ষিণবঙ্গ (Bengal)। শহরের রাস্তাঘাট জলমগ্ন। আর তাতে ঘটছে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। কোথাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কোথাও বা দেওয়াল চাপা পড়ে মানুষ মারা যাচ্ছেন। বজ্রাঘাতে মৃ
শেষ আপডেট: 23 September 2021 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টিতে (Rain) জেরবার গোটা দক্ষিণবঙ্গ (Bengal)। শহরের রাস্তাঘাট জলমগ্ন। আর তাতে ঘটছে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। কোথাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কোথাও বা দেওয়াল চাপা পড়ে মানুষ মারা যাচ্ছেন। বজ্রাঘাতে মৃত্যু (Death) তো আছেই।
রাজ্য সরকারের তরফে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না মিললেও সূত্রের খবর, গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৯ দিনে বাংলায় দুর্যোগের বলি হয়েছেন ৩৩ জন। এদের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুই সবচেয়ে বেশি। রাজ্যে এই ক'দিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৩ জন মারা গেছেন বলে খবর।
এছাড়াও তালিকায় রয়েছে, দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু, জলে ডুবে মৃত্যু, সাপের কামড়ে মৃত্যুও। দুই মেদিনীপুরে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এখনও মেঘ কাটেনি। সপ্তাহের শেষে আবারও ভাসতে পারে দক্ষিণবঙ্গ, তেমনটাই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। আর তাই দুর্যোগে এই মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে চিন্তায় রয়েছে নবান্ন।
দিনদুয়েক আগেই খড়দহে জমা জলে মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছিল। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। বাবা মা আর দাদাকে নিজের চোখের সামনে নিথর হয়ে যেতে দেখেছে ৪ বছরের একরত্তি। এখানেই শেষ নয়, খড়দহে এদিন সকালে আরও এক প্রৌঢ় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। গতকাল রাতে একইভাবে দমদমে মারা গেছে দুই কিশোরী।
সূত্রের খবর, এই ধরণের ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য পদক্ষেপ করছে সরকার। মানুষের সচেতনতা বাড়াতে প্রচার করা হবে।
এদিকে পূর্ব মেদিনীপুরের কেলেঘাই নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ৬টি ব্লক একেবারে জলের তলায়। জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জল এতটাই বেশি যে বাঁধ সংস্কারের কাজও সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না। রাজ্য সরকারের সেচ দফতরের সঙ্গে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আলোচনা চলছে।
এই মুহূর্তে রাজ্যে মোট ৬০০টি ত্রাণ শিবির চলছে। তার মধ্যে বেশিরভাগই পূর্ব মেদিনীপুরে। বিপর্যয়ের মাঝে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষকে। ক্যাম্পে আছেন ৬০ হাজার মানুষ। রাজ্যে ৭০ টির বেশি বাড়িঘর ভেঙেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৫ লক্ষ মানুষ।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'