Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে কাজ করতে গিয়ে আফ্রিকার জেলে বন্দি নদিয়ার ১৩ শ্রমিক! ধৃত এজেন্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজ পাবেন, তাই দেশ ছেড়ে আফ্রিকার তানজানিয়ায় গিয়েছিলেন ১৩ জন বাঙালি শ্রমিক। কিন্তু কাজের ফাঁদে পা দিয়ে, এজেন্ট মারফত পাচার হয়ে গিয়েছিলেন তানজানিয়ার বিভিন্ন জায়গায়। সেই বাঙালিদের খোঁজ পেল ন্যাশনাল অ্যান্টি ট্র্যাফিকিং  কমিটি

লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে কাজ করতে গিয়ে আফ্রিকার জেলে বন্দি নদিয়ার ১৩ শ্রমিক! ধৃত এজেন্ট

শেষ আপডেট: 24 November 2018 01:29

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজ পাবেন, তাই দেশ ছেড়ে আফ্রিকার তানজানিয়ায় গিয়েছিলেন ১৩ জন বাঙালি শ্রমিক। কিন্তু কাজের ফাঁদে পা দিয়ে, এজেন্ট মারফত পাচার হয়ে গিয়েছিলেন তানজানিয়ার বিভিন্ন জায়গায়। সেই বাঙালিদের খোঁজ পেল ন্যাশনাল অ্যান্টি ট্র্যাফিকিং  কমিটি। দীর্ঘ ৬ মাস ধরে ওই ১৩ বাঙালি তানজানিয়ার কোনও একটি জেলে বন্দি। ঘটনায় নদিয়া থেকে এক এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কাশ্মীরে অপহরণ করে খুন স্পেশ্যাল পুলিশ অফিসারকে

জানা যাচ্ছে, মোটা টাকার চাকরির লোভ দেখিয়ে ১৩ বাঙালিকে পাচার করা হয়। ১৩ জনের বেশিরভাগই নদিয়া জেলার হাঁসখালী থানার পশ্চিম হরিণডাঙ্গা এলাকার। তানজানিয়ার একটি অফিসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে  ধৃত এজেন্ট। ১৩ বাঙালির কাছ থেকে মাথা পিছু লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হয়। তার পরেই তানজানিয়ায় পাচার করা হয় তাঁদের। ধৃত দুই এজেন্টের এক জনের নাম শ্রীমন্ত বিশ্বাস। নদিয়ার কোন জায়গায় তার অফিস এখনও জানা যায়নি। তার মাধ্যমেই রাজ্য থেকে ১৩ জন বাঙালি পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে, এই পাচার চক্রের মূল মাথা দিল্লির। সেই এজেন্টকেও দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।তার নাম নাদিম সালাফি বলে জানা যাচ্ছে। শনিবারই তাকে কলকাতায় নিয়ে আসার কথা।

মালয়েশিয়ায় বন্দি বাঙালিদের দেশে আনার প্রক্রিয়া এখনও জারি। সেই সময়ই তানজানিয়ায় বাঙালি বন্দিদের খোঁজ পায় এনএটিসি। ইতিমধ্যেই, তানজানিয়ায় বন্দি বাঙালিদের ফেরাতে বিদেশ মন্ত্রককে চিঠি দিয়েছেন এনএটিসি-র চেয়ারম্যান শেখ জিন্নার আলি। তিনি জানাচ্ছেন, "মালয়েশিয়া এখনও আটকে অসংখ্য বাঙালি।সেই তদন্তে নেমেই একের পর এক পাচার চক্রের খোঁজ মিলছে। তানজানিয়ার জেলে বন্দি বাঙালিদের অবস্থাও খুব খারাপ। তাঁদের খেতে দেওয়া হচ্ছে না। ১৩ জনের নাম বিদেশ মন্ত্রকের কাছে পৌঁছেছে।" 

মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া,ইরান এবার তানজানিয়া। রাজ্য থেকে লক্ষ লক্ষ যুবক এই দেশগুলিতে পাচার হচ্ছেন। সৌদি  আরবও এই তালিকায় রয়েছে। তবে এখনও সৌদিতে আটক বাঙালিদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এনএটিসি-র দাবি, দিল্লি-রাজস্থান থেকে পাচার চক্র কাজ করছে। সেই চক্রের এজেন্টরাই পশ্চিমঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অফিস খুলে বসে রয়েছে। যাদের কাজ চাকরির লোভ দেখিয়ে মানুষ পাচার করা।

                                                                ধৃত শ্রীমন্ত বিশ্বাস

পরিবার সূত্রের খবর, তানজানিয়ায় বন্দি বাঙালিদের প্রত্যেকের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেই তাদের জেলে বন্দি করা হয় বলে খবর। ওই পরিবারগুলির আরও দাবি, তানজানিয়া যাওয়ার পর থেকেই তাঁদের উপর অত্যাচার শুরু হয়। গত কয়েক মাস ১৩ বাঙালির কোনও খবর পাওয়া যায়নি। এনএটিসি বিষয়টি জানার পরই বাঙালিদের বন্দিদশার খবর আসে।

অভিযোগ, এর জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। ওই একই গ্রাম থেকে তানজানিয়ায় কাজের জন্য ১৭ জন গত ১৯ অক্টোবর বাড়ি ছাড়েন। প্রথমে মুম্বাই গিয়ে সেখান থেকে ২৬ অক্টোবর তাঁদের বিমান ধরার কথা ছিল। দুবাই হয়ে তাঁরা তানজানিয়া পৌঁছবেন বলে এজেন্ট জানিয়েছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুম্বইয়ে থাকাকালীন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা হলেও তার পরে আর কোন যোগাযোগ করা যায়নি। দিন কয়েক আগে তানজানিয়া থেকে একজন হাঁসখালীতে এক পরিচিতের কাছে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বিপদের কথা জানান। যাওয়ার পরে চার দিন কোনও যোগাযোগ না হওয়ায়, পরিবারের লোকেরা খবর পান, তাঁরা তানজানিয়া এয়ারপোর্টে নকল ভিসার কারনে গ্রেপ্তার হয়ে জেল বন্দি রয়েছেন। তখনও সকলে তানজানিয়ে যাননি, কয়েক জন মুম্বইয়ে ছিলেন। এই খবর পেয়ে বাকি কয়েক জন মুম্বই থেকে হাঁসখালিতে ফেরত চলে আসেন। হাঁসখালি থানায় গ্রেফতার হওয়া শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় এজেন্ট শ্রীমন্ত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত কাল কলকাতা থেকে গ্রেফতার করে হাঁসখালি থানায় নিয়ে আসা হয় শ্রীমন্তকে। অসহায় ওই পরিবারগুলির অভিযোগ, প্রত্যেকেই টাকা ধার করে অথবা জমি বন্ধক রেখে টাকা দিয়ে তাঁদের স্বামী অথবা ছেলেকে রোজগারের আশায় বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। সর্বস্ব খুইয়ে তারা চাইছেন তাঁদের সন্তান এবং স্বামী সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসুক। কিন্তু বিদেশ থেকে কবে ফিরবেন, তা এখনও অজানা। ওই শ্রমিকদের এক জন বিদ্যুৎ বিশ্বাস। তাঁর স্ত্রী নিপা বিশ্বাস জানান, তাঁর স্বামী এর আগে আফ্রিকায় কাজ করতে গিয়েছিলেন প্রায় দু'বছর। সেখানে কাজ করে ছ'মাস আগে বাড়ি ফেরেন। এদের সকলেই দরিদ্র পরিবারের। কেউ সুদে টাকা নিয়ে কেউ আবার জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন। রোজগার দূরে থাক, এখন বাড়ি ফেরাই দায়।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 


```