
শেষ আপডেট: 13 October 2018 12:29
থেকে গেছে যা কিছু তার মধ্যে রয়েছে এ পরিবারে দেবীর নিত্য ভোগের প্রথাও। কোনও দিন শুধুই কালো নুনিয়া চালের ফ্যান ভাত। সঙ্গে ঘি আর আলুসেদ্ধ। কোনও দিন আবার পাঁচ রকম ভাজা আর খিচুড়ি। কেবল পুজোর চারদিন নয়, বছরের ৩৬৫ দিনই ভোগের থালা সাজিয়ে দেওয়া হয় তাহেরপুরে মহারাজা কংসনারায়ণ রায়ের অষ্টধাতুর দুর্গাকে। সাবেকী এই দুর্গা মূর্তির পাশাপাশিই শারদীয়া উৎসবের চারদিন দেবীর মৃন্ময়ী মূর্তির আরাধনাও করা হয় এই পরিবারে।
আনুমানিক ৬৫০ বছর আগে অষ্টধাতু দিয়ে তৈরি ৮ ইঞ্চির দুর্গামূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাহেরপুরের মহারাজা কংসনারায়ণ রায়। পরিবারের সদস্য অর্ঘ্য চক্রবর্তী জানান, পারিবারিক গল্পের ঝাঁপি থেকে যেটুকু তাঁরা শুনেছেন তা হল, বর্তমান বাংলাদেশের তাহেরপুরে মন্দির তৈরি করে তিনি এই মূর্তি প্রতিষ্ঠার পরপরই তাঁর রাজ্য আক্রমণ করেছিলেন হুসেন শাহ। সেই যুদ্ধে নিহত হন মহারাজা কংসনারায়ণ।
প্রাণ বাঁচাতে তাঁর পুত্র রমাবল্লভ রায় আশ্রয় নেন সাঁকরাইলে এক জমিদারের কাছে। চলে আসার সময় কিন্তু দেবীর অষ্টধাতুর মূর্তি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। কথিত, সমস্ত কিছু শুনে তাঁকে প্রচুর নিষ্কর জমি দেন ও মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেন ওই জমিদার। সেখানেই চলত দেবীর নিত্য পূজো। এই খবর গিয়েছিল রাজা শ্রীহট্ট সেনের কাছে। তিনি এসে দেখা করে রাজচক্রবর্তী উপাধিতে ভূষিত করেন রমাবল্লভ রায়কে।
পরিবারের আরেক সদস্য চন্দন চক্রবর্তী বলেন, “১৯৪০ সালে আমাদের পূর্বপুরুষ জুড়ান চক্রবর্তী এই মূর্তি নিয়ে চলে এসেছিলেন জলপাইগুড়ির পান্ডাপাড়ায়। তারপর থেকেই এখানেই আমাদের পরিবারের বাস। পারিবারিক রীতি মেনে ভোগ দিয়ে নিত্য পূজোও চলছে।”
পরিবারের বড়বউ চন্দনা চক্রবর্তী বলেন, “সারা বছর মাকে আমরা বাড়ির মেয়ের মতোই রাখি। কোনওদিন ফ্যানভাতের সঙ্গে তিন তরকারি সেদ্ধ দিয়ে তাতে খানিকটা ঘি আর সন্ধব লবণ দিয়ে মাকে নিবেদন করি। কোনওদিন আবার পঞ্চব্যঞ্জনের সঙ্গে খিচুড়ি বা ঘি ভাত।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, এখন আয় কমেছে। তাই আগের মতো ঠাঁট বজায় রাখা অনেকক্ষেত্রেই আর সম্ভব হয়নি। তবে পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে বজায় রেখেছেন দেবী দুর্গার নিত্যভোগের ব্যবস্থা। অন্য কিছু না হোক শুধু আলুসেদ্ধ ঘি দিয়ে হলেও দেবীর সামনে অন্ন ভোগ সাজিয়ে দেন তাঁরা।