যোগী রাজ্যের মতো এ বার বাংলাতেও নাম বদলের খেলা, ইসলামপুর হল ‘ঈশ্বরপুর’!
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: যোগী রাজ্যের ছোঁয়া এ বার এ রাজ্যেও। উত্তরপ্রদেশে যখন একের পর এক জায়গার নাম বদল হচ্ছে, তার আঁচ এসে পড়েছে বাংলাতেও।
যোগী-ম্যাজিকে ইলাহাবাদ হয়েছে ‘প্রয়াগরাজ’। ফৈজাবাদ ‘অযোধ্যা নগর’। সেই রেশ এ বার ইসলামপুরেও।
শেষ আপডেট: 11 November 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: যোগী রাজ্যের ছোঁয়া এ বার এ রাজ্যেও। উত্তরপ্রদেশে যখন একের পর এক জায়গার নাম বদল হচ্ছে, তার আঁচ এসে পড়েছে বাংলাতেও।
যোগী-ম্যাজিকে ইলাহাবাদ হয়েছে ‘প্রয়াগরাজ’। ফৈজাবাদ ‘অযোধ্যা নগর’। সেই রেশ এ বার ইসলামপুরেও। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) পরিচালিত ‘সরস্বতী শিশুমন্দির ও বিদ্যামন্দির’ স্কুলের বোর্ডে ইসলামপুরের জায়গায় লেখা হয়েছে ‘ঈশ্বরপুর’। স্কুলের বোর্ডের এক জায়গায় সেই পরিবর্তিত নাম লেখা রয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ অবশ্য এ বিষয়ে মুখ না খুললেও প্রশ্ন উঠেছে ‘সরস্বতী শিশুমন্দির ও বিদ্যামন্দির’ কি আদৌ মধ্য় শিক্ষা পর্ষদ অনুমোদিত? যদি পর্ষদ অনুমোদিত হয়, তাহলে অনুমতি ছাড়াই হঠাৎ করে স্কুল তার জায়গার নাম বদল করে কী করে? গোটা ঘটনাটা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, স্কুলটি পর্ষদ অনুমোদিত কি না সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্কুলের পাশাপাশি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কার্যালয়ের বোর্ডেও ‘ঈশ্বরপুর’ লেখা আছে। পরিষদের পূর্ব ভারতের সংগঠক শচীন্দ্রনাথ সিংহের বক্তব্য, ইসলাম শব্দটা যেহেতু ঔপনিবেশিক, তাই এই নাম বদলের সিদ্ধান্ত। কিন্তু, শুধু স্কুলের বোর্ডে জায়গার নাম বদল করা হল কেন, উঠছে সেই প্রশ্নও। তবে, ভিএইচপি-র দাবিকে নিতান্তই হাস্যকর বলে দাবি করেছেন ইতিহাসবিদরা। তাঁদের কথায়, ‘ইসলাম’ আরবি শব্দ, আর ‘পুর’ শব্দটা এসেছে বেদ থেকে। এটা ভারতীয় সংস্কৃতিরই পরিচায়ক, সুতরাং ঔপনিবেশিক বলে পর্ষদের সভাপতিরা যে দাবি করছেন তার আসলে কোনও অস্তিত্বই নেই।
স্কুলের বাইরের বোর্ডে বা স্কুলের গাড়িতে ‘ঈশ্বরপুর’ লেখা থাকলেও, স্কুলের বিল্ডিং এর মূল বোর্ডে এখনও ইসলামপুর লেখা আছে। এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দেখা মেলেনি। স্কুলে যাঁরা ছিলেন তাঁরা কেউ এই বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।