দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরুলিয়া জেলা পরিষদের বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া সমাপ্ত। তার আগে মঙ্গলবার রাতেই পুরুলিয়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সহ-সভাধিপতি এবং দলনেতার নাম ঘোষণা করেন পুরুলিয়া জেলা পর্যবেক্ষক শান্তনু সেন। সম্ভাব্য নামের তালিকা নিয়ে আগেই নিশ্চিত ছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। সেইমতো আজ সকাল থেকেই বোর্ড গঠন ঘিরে উৎসব শুরু হয়ে যায় জেলার নানা জায়গায়।
জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি হলেন তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছেন সুজয়বাবু। আগের বার দলনেতা ছিলেন। এ বার পুঞ্চা থেকে তৃণমূলের টিকিটে জেতেন তিনি। সহ-সভাধিপতি হয়েছেন বান্দোয়ান থেকে নির্বাচিত প্রতিমা সোরেন। প্রতিমাদেবীর স্বামী বর্তমানে বান্দোয়ানের বিধায়ক। পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লক থেকে নির্বাচিত হরধর মাহাতো হয়েছেন জেলা পরিষদের নতুন দলনেতা।
তৃণমূল সূত্রে খবর, গতকাল সন্ধে থেকেই বৈঠকের তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিক করা জেলা পরিষদের সভাধিপতির নাম ঘোষণা হয় রাত ৯টার সময়। সভাধিপতি এবং সহ-সভাধিপতি কাকে নির্বাচন করা হবে এই নিয়ে দলের অন্দরেও নানা জল্পনা ছিল বলে জানা গিয়েছে।
https://www.youtube.com/watch?v=e3xRnTYuU9g
এ দিন দুপুর ১টা নাগাদ জেলা পরিষদের বোর্ড গঠন হয়। অতিরিক্ত জেলাশাসক দীনেশ কুমার মন্ড সভাধিপতি-সহ অন্যান্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের মোট ৩৮ টি আসনের মধ্যে ২৬টি আসনে তৃণমূল, ৯টি আসনে বিজেপি এবং ৩টি আসনে কংগ্রেস জেতে। পরে বিজেপির দু’জন সদস্য তৃণমূলে যোগদান করলে তৃণমূলের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮টিতে। বিজেপির আসন কমে হয় ৭টি।
বুধবার দুপুরে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সদস্যেরা উপস্থিত থাকলেও, ছিলেন না বিজেপির সদস্যেরা। নতুন নির্বাচিত সভাধিপতি সুজবাবু বলেছেন, ‘‘এখানে কেউ সভাধিপতি নন। আমার ২৮ জন সদস্যের সবাই সভাধিপতি। একসঙ্গে উন্নয়নের কাজ করব আমরা।’’ এলাকায় বহুদিন ধরেই সেচ ব্যবস্থা অনুন্নত বলে জানালেন সুজয়বাবু। তাঁর কথায়, সবচেয়ে আগে সেচের কাজে গতি আনতে হবে। তারপরে জোর দেওয়া হবে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যে। গণবন্টনে কিছু সমস্যা থাকলেও সেক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।