দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: কাঠের ছোট বাড়ি। স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে অভাবের সংসার লেপা ওরাওয়ের। সেই বাড়িটিতেই হামলা চালাল প্রকান্ড দাঁতাল।
ঘরের ভিতর মাথা ঢুকিয়ে শুঁড় দিয়ে খাবার খুঁজতে খুঁজতে ভেঙে ফেলল গোটা বাড়িটাই। কোনও রকম কাঠের ছাউনির নীচে ঢুকে প্রাণ বাঁচালে লেপা। রাজগঞ্জের উত্তর মান্তাদারি এলাকায় হাতির হানায় ফের ছড়াল আতঙ্ক।
মান্তাদারিতে হাতির হানা লেগেই থাকে। লেপার কথায়, গতকাল রাত দেড়টা নাগাদ ঘর ভাঙার আওয়াজ পেয়ে উঠে দেখেন ঘড়ের ভিতর মাথা ঢুকিয়ে শুঁড় নাড়ছে বিশাল একটি হাতি। ভয়ে চিৎকার করে ওঠেন তিনি। এলাকার বাসিন্দা হরকেশ্বর রায় বলেছেন, তাঁরা ছুটে এসে দেখেন বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে রয়েছে হাতি। নানা ভাবে তাকে তাড়াবার চেষ্টা করলেও সেখান থেকে নড়ছিল না সে। বন দফতরকে খবর দিলে তাঁরা এসে পৌঁছন এক ঘণ্টা পরে।
লেপার কথায়, "বৈকন্ঠপুরের জঙ্গল থেকে সম্ভবত এলাকায় ঢুকে পড়ে হাতিটি। ঘরের ভিতর খাবার খুঁজছিল সে। বাড়িতে মজুত রাখা সমস্ত চাল ও সব্জি খেয়ে গিয়েছে হাতিটি। বাড়িটিও ভেঙে দিয়ে গেছে।"
ঘটনায় বেলাকোবার রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত বলেন, "রাতে আমারা মোবাইল ভ্যান নিয়ে রাজগঞ্জের ধানি জমি এলাকায় টহল দিচ্ছিলাম। গত কয়েকদিন ধরে হাতি ধান খেয়ে নিচ্ছিল। প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে খবর পেয়ে আমরা পৌছই। গিয়ে দেখি ঘর ভেঙে পালিয়ে গেছে হাতি।"
লেপা ওরাওয়ের ঘর মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাহারার জন্য ওই এলাকায় দু'জন লোকও নিয়োগ করা হয়েছে।