দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে চোরাশিকারিদের গুলিতে খুন গন্ডারের শিং উদ্ধার করতে গিয়ে উদ্ধার হল হাতির দাঁত। গ্রেফতার পাচার চক্রের দুই চাঁই। বনদফতর সূত্রে জানা গেছে ধৃতদের নাম গেম দরজি ও রবীন্দ্র বসুমাতারি। গেম দোরজি ভুটানের থিম্পুর বাসিন্দা। অসমের বাসিন্দা রবীন্দ্র বসুমাতারি।
জলদাপাড়ায় চোরা শিকারিদের হাতে খুন হওয়া গন্ডারের শিং ৪৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি হবে বলে সম্প্রতি খবর পান টাস্কফোর্সের প্রধান সঞ্জয় দত্ত। ওই শিং অসমের শ্রীরামপুরে রয়েছে বলেও খবর পান তাঁরা। তবে টাকার লেনদেন ভুটানে থিম্পুতে হবে বলেও জানতে পারেন তাঁরা। সেই শিং নিতে থিম্পু থেকে অসমের শ্রীরামপুরে এসেছে গেম দরজি।
বনাধিকারিক গঙ্গাপ্রসাদ ছেত্রী জানান, টাস্কফোর্সের কাছে নির্দিষ্ট এই তথ্য আসার পরেই সোমবার ভোর রাতে অভিযান চালানো হয় বাংলা অসম সীমান্তের শ্রীরামপুর বর্ডারে। গ্রেফতার করা হয় গেম দরজি ও রবীন্দ্র বসুমাতারিকে। তাদের কাছে একটি হাতির দাঁত পান বনদফতরের কর্মী আধিকারিকরা। একটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়। দু’জন ধরা পড়লেও পালিয়ে যায় বাকিরা।
টাস্কফোর্সের প্রধান সঞ্জয় দত্ত জানান, ধৃতদের আজ জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হয়। হেফাজতে নিয়ে তাদের জেরা করেই বাকিদের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা হবে। গন্ডারের শিং এর খোঁজ মিলবে বলেই তাঁদের আশা।
সম্প্রতি এক বিকেলবেলা সাড়ে চারটের সময় জলদাপাড়ার জাতীয় উদ্যানের হাওড়া ওয়াচ টাওয়ার থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান বনকর্মীরা। পৌনে পাঁচটা নাগাদ ফের গুলির শব্দ শুনতে পান বনকর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে হাতি নিয়ে তল্লাশি শুরু করে বনদফতরের কর্মীরা। কিন্তু অন্ধকার নেমে আসায় বেঁকে বসে কুনকি হাতিরা। বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিতে হয় তল্লাশি অভিযান।
পরের দিন ভোরে ফের তল্লাশি শুরু হতেই উত্তর রেঞ্জের ‘ফিফটি ফিট’ বিটের চার নম্বর কম্পার্টমেন্টে একটি মৃত গন্ডারের হদিশ মেলে। খড়্গ কাটা ছিল তার। ময়নাতদন্তের পর গন্ডারের দেহ থেকে রাইফেলের দু’টি গুলি পাওয়া যায়। জানা গিয়েছে, দু’টি গুলিই করা হয়েছিল আট থেকে দশ ফুট দূরত্বের মধ্যে থেকে। একে বন দফতরের কর্তারা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক থেকে গুলি চালানোই বলছেন। শুধু তাই নয়, গুলি চালানোর ধরন এবং গোটা পরিস্থিতি দেখে বনকর্তারা এটা নিশ্চিত যে উত্তরপূর্ব ভারতের প্রশিক্ষিত শ্যুটাররাই গুলি করে গন্ডারটিকে মেরেছে। একটি গুলি গন্ডারটির কপালে এবং আর একটি কানের পাশে লাগে বলে জানা যায়।