
শেষ আপডেট: 10 November 2018 07:37
সেই মতোই আজ সকাল এগারোটা নাগাদ বইয়ের ব্যাগ নিয়ে গুটিগুটি স্কুলে এসেছিল পড়ুয়ারা। তার আগে সকাল দশটায় ইসলামপুরের মহকুমাশাসক, জেলা স্কুল পরিদর্শক, এবং স্কুলের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলে পৌঁছে যান। কিন্তু মৃত দুই ছাত্রের পরিবারের তরফ থেকে দাবি করা হয়, তারা জেলাশাসক ছাড়া অন্য কারও হাতে স্কুলের চাবি তুলে দেবেন না। তাদের কিছু শর্ত আছে যে শর্তগুলো তারা জেলাশাসককেই জানাবেন। ফের স্কুল খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বাড়ি ফিরে যায় পড়ুয়াদের অনেকেই। মহকুমা শাসক ও ডিআই অভিভাবকদের বুঝিয়ে স্কুল খোলার চেষ্টা জারি রাখেন। পৌঁছোন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও। আবার শুরু হয় বৈঠক। শেষপর্যন্ত খোলে জট। কিন্তু এরপরেও স্কুল খুলতে গিয়ে ফের ধাক্কা। এ বার দাড়িভিট স্কুলে অশান্তি সৃষ্টির দায়ে গ্রেফতার আটজনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে স্কুলের সামনে বসে পড়েন তাঁদের পরিবার। অবশেষে প্রশাসনিক কর্তাদের আশ্বাসে তাঁরা সরে গেলে খোলে স্কুলের দরজা।
উর্দু ও সংস্কৃত শিক্ষক নিয়োগের প্রতিবাদে ছাত্রদের আন্দোলনে ২০ সেপ্টেম্বর উত্তাল হয়ে উঠেছিল দাড়িভিট স্কুল লাগোয়া এলাকা। আন্দোলন বাগে আনতে লাঠি চালায় পুলিশ। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল। গুলিতে মৃত্যু হয় প্রথমবর্ষের দুই ছাত্রের। পুলিশের গুলিতেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবার ও পড়শিরা দাবি করলেও তা মানতে চায়নি পুলিশ। এরপর থেকেই সিবিআই তদন্তের দাবিতে দেহ দাহ না করে মাটি চাপা দিয়ে রাখেন তাঁরা। এই দাবিতেই এলাকাবাসীর আন্দোলনের জেরে বন্ধ ছিল স্কুলও।