পুরবোর্ড নেই, জলে ভাসব না তো? বর্ষার আগে চিন্তায় হাওড়াবাসী
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া : এক ঘণ্টা টানা বৃষ্টি হলেই জল জমে যায় মধ্য ও দক্ষিণ হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায়। বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা তেমনই। আগে জমা জলের থেকে বাঁচতে কখনও ছুটে গেছেন কাউন্সিলরের কাছে, কখনও মেয়র পারিষদের কাছে। এ বার কী করবেন, সেটাই ভাব
শেষ আপডেট: 11 June 2019 12:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া : এক ঘণ্টা টানা বৃষ্টি হলেই জল জমে যায় মধ্য ও দক্ষিণ হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায়। বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা তেমনই। আগে জমা জলের থেকে বাঁচতে কখনও ছুটে গেছেন কাউন্সিলরের কাছে, কখনও মেয়র পারিষদের কাছে। এ বার কী করবেন, সেটাই ভাবাচ্ছে তাঁদের। জুন মাসের ১০ পেরিয়েছে। দেরি হলেও আর কয়েক দিনের মধ্যেই এসে পড়বে বর্ষা। আর সে কথা মাথায় রেখে জলবন্দি হওয়ার আশঙ্কা চেপে ধরেছে হাওড়াবাসীকে। জমা জলে এ বার দুর্ভোগ কয়েক গুণ বাড়বে, এমনটাই মনে করছেন তাঁরা।
গত ডিসেম্বরে মেয়াদ ফুরিয়েছে পুরবোর্ডের। তারপর আর ভোটও হয়নি। তাই নতুন পুরবোর্ডও গঠন হয়নি। বর্তমানে বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স পরিচালনা করছে পুরসভা। যার মূল দায়িত্বে রয়েছেন পুর কমিশনার বিজিন কৃষ্ণ। শহরের বাসিন্দা ইমরান খান বলেন, “পুরবোর্ড না থাকায় এমনিতেই ঠিকমতো পরিষেবা পাচ্ছি না। জঞ্জাল সাফাই ঠিক মতো হয় না। আরও নানা অসুবিধা। আমরা খুব চিন্তায় রয়েছি, এ বার বর্যায় জল জমলে কার কাছে যাব?”
[caption id="attachment_113290" align="aligncenter" width="1082"]

ফাইল চিত্র[/caption]
মধ্য হাওড়ার পঞ্চাননতলা. শিবপুরের রামচরণ শেঠ রোড, দক্ষিণ হাওড়ার কাজিপাড়া এই এলাকাগুলিতে বরাবরই সামান্য বৃষ্টিতে জল জমে। শহরের আরেক বাসিন্দা দেবব্রত নন্দী চৌধুরী বলেন, “হাওড়ায় বরাবরই অল্প বৃষ্টিতে জল জমে যায়। ভোগান্তিতে পড়ি আমরা। এ বার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। তাই সমস্যা আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।”
ভোট না হওয়ায় কাউন্সিলর ও মেয়র পরিষদ না থাকা একটা সমস্যা বলে স্বীকার করেছেন কমিশনারও। তবে তাঁর আশ্বাস, শহরবাসীর উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। বিজিনকৃষ্ণ বলেন, “ইতিমধ্যেই ওয়াটার লগিং আটকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যার মধ্যে প্রধান হল রানিঝিল সংস্কার। দীর্ঘদিন ধরে এই ঝিল পরিষ্কার না হওয়ায় শহরের জমা জল এখানে ফেললেও তা ওভার ফ্লো হত। এ বারে যাতে এই ঝিলে জল ফেলা যায় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, রেলের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকে ঠিক করা হয়েছে যে শহর লাগোয়া রেলের জায়গাতে নিকাশি যৌথভাবে করা হবে। তাছাড়া সেচ দফতরের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেচ দফতর নিকাশির কাজে সহায়তা করবে। বিভিন্ন পাম্পিং স্টেশন ও পাম্পগুলি তৈরি রাখা হয়েছে যাতে জল জমলেই কাজে লাগানো যায়।
দায়িত্বে না থাকলেও প্রাক্তন কাউন্সিলর ও প্রাক্তন মেয়র পরিষদদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। পুর কর্তৃপক্ষের আশ্বাস কি আদৌ বাস্তবায়িত হবে? সেই চিন্তা কিন্তু বাসিন্দাদের থেকেই যাচ্ছে।