দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত এশহরের কোভিড ১৯-এর দশম রোগী। পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি তিনি। নয়াবাদের বাসিন্দা, ৬৬ বছরের ওই বৃদ্ধ উচ্চ রক্তচাপের রোগী। নিয়মিত ওষুধ খেতে হয় তাঁকে। এ ছাড়া তাঁর কোনও দীর্ঘ দিনের রোগ নেই। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়। অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাঁকে।
স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, এখনও সরাসরি কোনও বিদেশ-যোগ মেলেনি ওই ব্যক্তির। তবে খতিয়ে অনুসন্ধান না করে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না এ ব্যাপারে। কারণ দমদমের যে প্রৌঢ় দিন কয়েক আগেই করোনাভাইৎাস সংক্রমণে মারা গেলেন, প্রাথমিক ভাবে তাঁরও বিদেশ যোগ মেলেনি। কিন্তু কয়েক দিন পরে জানা যায়, তাঁর ছেলে ইতালিতে থাকেন। সেখানে গিয়েছিলেন ওই প্রৌঢ়।
অ্যাপোলোতে ভর্তি থাকা অবস্থায় প্রবল শ্বাসকষ্টের শিকার হয়ে মারা যান তিনি।
জানা গেছে, নয়াবাদের এই প্রৌঢ়ের সঙ্গে সরাসরি বিদেশের সম্পর্ক না থাকলেও, গত ১২ মার্চ পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় এক আত্মীয়র বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ওই প্রৌঢ়। সেখানে অনেক মানুষ এসেছিলেন নানা জায়গা থেকে।
তাঁর ভায়রাভাই এগরার বাসিন্দা ডাঃ শুভাশিস মাইতি বলেন, ‘‘আমার ছেলের বিয়েতে এসেছিলেন উনি। ১৪ তারিখ বৌভাতের দিন শরীরটা খারাপ হয়। প্যারাসিটামল খেয়ে বৌভাত অনুষ্ঠান কাটান। পরের দিন দিঘায় বেড়াতেও যান। সেখানে দু’দিন থেকে অসুস্থ হন। আবার জ্বর হওয়ায় এগরায় ফিরে আসেন। এগরাতে রক্ত পরীক্ষায় টাইফয়েড ধরা পড়ে। এরপর ভাল চিকিৎসার জন্য কলকাতা ফিরে যান গত ২৩ মার্চ।’’
ওই দিনই তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় এবং বুধবার রিপোর্ট আসে করোনা পজিটিভ। খবর জানার পরে এগরা মহকুমা প্রশাসন মাইতি পরিবারকে বাড়ি থেকে ১৪ দিন বেরোতে বারণ করেছেন বলে জানা গেছে। এগরার মহকুমাশাসক বিয়েতে নিমন্ত্রিতদের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছেন।