
শেষ আপডেট: 30 July 2023 06:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে ক্রমশই চওড়া হচ্ছে ডেঙ্গির থাবা। শুক্রবার সকালে কলকাতার এমআর বাঙুর হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছিল বারুইপুরের বাসিন্দা ডেঙ্গি আক্রান্ত এক মহিলার। এবার নদিয়ার বাসিন্দা এক যুবকের মৃত্যু হল মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে (1 more Dengue death)।
নদীয়ার কাষ্ঠডাঙা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রমেশ দাস নামে ওই যুবক গত রবিবার থেকেই ভুগছিলেন জ্বরে। প্রাথমিকভাবে হরিণঘাটা গ্রামীণ হাসপাতাল এবং পরে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। সেখানে কোথাও ৩৮ বছর বয়সি রমেশের ডেঙ্গি ধরা পড়েনি। পরে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। সেখানে রক্ত পরীক্ষায় তাঁর ডেঙ্গি রিপোর্ট পজিটিভ আসে। কিন্তু তার পরেও বাঁচানো গেল না তাঁকে। শুক্রবারই মৃত্যু হয় তাঁর। রাজ্যে এই নিয়ে ডেঙ্গিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯।
বর্ষার শুরু থেকেই রাজ্যে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে ডেঙ্গি। জেলা হাসপাতালগুলিতে প্রত্যেকদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত, আমডাঙা, হুগলির শ্রীরামপুর, নদিয়ার রানাঘাট, পশ্চিম বর্ধমানের কালনা সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় ডেঙ্গির দাপট বাড়ছে । যদিও কোন জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা কত তা এখনও স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে না স্বাস্থ্য দফতর। তবে এবারের ডেঙ্গির সেরোটাইপ চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই নাইসেডের তরফের পরীক্ষা করা শুরু হয়েছে। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল থেকে ইতিমধ্যেই নমুনা চেয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাইসেডের অভিজ্ঞতা শান্তা দত্ত।
উল্লেখ্য, ডেঙ্গি নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত করার জন্য, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিশেষ গাইডলাইন (Dengue Guideline) প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দফতর (WB Health Department)। একই সঙ্গে কলকাতা সহ সমস্ত হাসপাতালের সুপার এবং জেলাগুলির স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ মেনে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ডেঙ্গি সচেতনতায় কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় জেলা পুলিশের উদ্যোগেও শুরু হয়েছে সচেতনতা শিবির।
তবুও ডেঙ্গির প্রকোপ না কমায় উদ্বিগ্ন ওয়াকিবহাল মহল। পরিস্থিতির জন্য সম্প্রতি বাংলাদেশকে দায়ী করে কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ বলেছিলেন, “বাংলাদেশে ডেঙ্গির প্রকোপ মারাত্মক আকার নিয়েছে। এদিকে প্রতিদিনই দুই দেশের বহু মানুষ আসা যাওয়া করেন। সেই সূত্রে কলকাতা সহ রাজ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকছে। তাই আমরা চাইছি ঢাকা-কলকাতার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে।”
এসএসকেএমকে নোটিস কলকাতা পুরসভার, ববি-অতীন বললেন, ‘ডেঙ্গি নিয়ে কাউকে রেয়াত নয়’