রাজরূপা ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগনা : রাত পোহালেই ঠাকুরনগরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যোগ দেবেন মতুয়া মহাসংঘের অনুষ্ঠানে। তার আগে শরিকি ঠোকাঠুকি তুঙ্গে উঠল ঠাকুরবাড়িতে।
বড়মার নাতি শান্তনু ঠাকুরের অভিযোগ, ধর্ম সম্মেলন ব্যর্থ করতে উঠে পড়ে লেগেছে রাজ্যের শাসক দল। যাতে লোক না আসতে পারে তার জন্য, বাস বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে জল। শান্তনুর কাকিমা তৃণমূলের সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর অবশ্য পুরোটাই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ঠাকুরবাড়িতে শরিকি লড়াই অবশ্য নতুন কিছু নয়। বড়মা বীণাপাণিদেবীর দুই ছেলে মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর ও কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরের পরিবারের মধ্যে কাজিয়া আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছে। ২০১৪ সালের শেষে মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরের পরিবারকে বাদ রেখেই তৈরি হয়েছিল মতুয়া মহাসংঘের কার্যকরী কমিটি। পরে পাল্টা কমিটি তৈরি করেন মঞ্জুলকৃষ্ণের অনুগামীরা। কপিলকৃষ্ণের মৃত্যুর পর শাসকদল তাঁর স্ত্রী মমতাবালাকে লোকসভায় প্রার্থী করতে চাইলেও, মঞ্জুলকৃষ্ণ চান প্রার্থী করা হোক তাঁর ছেলে সুব্রতকে। অবশ্য সেই ইচ্ছে পূরণ হয়নি তাঁর। কিন্তু দূরত্ব আরও বাড়ে দুই ঘরের।
https://twitter.com/narendramodi/status/1091342099243446272
এমনিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড়মার স্নেহধন্য বলেই পরিচিত। সে দিক থেকে মতুয়া ভোটের একটা অংশও তাঁর কব্জায়। সেই ভোট ব্যাঙ্কে ভাগ বসাতেই মোদীর ঠাকুরনগরে আসা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর জন্যই বনগাঁ থেকে ঠাকুরনগরে সরিয়ে আনা হয়েছে তাঁর সভাস্থল।
আর তাঁর এই সফর ঘিরেই তীব্র হল ঠাকুরবাড়ির লড়াই। আজ মঞ্জুলকৃষ্ণর ছোট ছেলে শান্তনু ঠাকুর বলেন, “লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে কাল। তাঁদের জন্য আমরা যে সমস্ত জল ব্যবসায়ীকে জলের বোতল সরবরাহের অর্ডার দিয়েছিলাম, তারা আজ ফোন করে বলছে জল দিতে পারবে না। এমনকি আজ সকালে প্রায় চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। এ সব যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই তা খুবই স্পষ্ট।”
বনগাঁর তৃণমূল সাংসদ মমতাবালার বক্তব্য, “সকালে কিছুক্ষণ লোডশেডিং ছিল। তারপরে চলে আসে। কারা কেন জল দিচ্ছে না সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। সব ভিত্তিহীন অভিযোগ।”
সব মিলিয়ে মোদীর সফর ঘিরে এখন ঠাকুরনগরের উত্তাপ ঠাকুরবাড়িতে কেন্দ্রীভূত।