দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : বাংলাদেশ থেকে ভাড়া করে আনা খুনেদের দিয়ে তাঁকে মারার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এবং এই খুনের ষড়যন্ত্রের মূল কারিগর হিসেবে বনগাঁর বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর-সহ চারজনের বিরুদ্ধে গোবরডাঙা থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি। ৬ তারিখ পঞ্চমদফা ভোটের আগে শেষ প্রচারের দিন গাড়ি দুর্ঘটনায় জখম হয়েছিলেন শান্তনু ঠাকুর। সেদিনই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে তাঁকে খুনের চক্রান্ত করার অভিযোগ এনেছিলেন শান্তনু। দুজনেই তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবু ভোট পরবর্তীতে এই অভিযোগ- পাল্টা অভিযোগেই এখন তেতে উঠেছে বনগাঁর রাজনীতি।
রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার অভিযোগ করেন, তাঁকে খুনের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে বাংলাদেশের দুই সুপারি কিলারকে নিয়োগ করা হয়েছিল। পাঁচ লক্ষ টাকা ওই দুজনকে অগ্রিম দিয়ে দেওয়া হয়। কাজ হয়ে গেলে বাকি টাকা দেওয়া হবে বলে রফাও হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসে ওই দুষ্কৃতীরা। এই পুরো খবরটাই তিনি জানতে পেরেছেন তাঁর সহকারীর কাছ থেকে। জ্যোতিপ্রিয়বাবু বলেন, “পাঁচ তারিখ সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ একটি নম্বর থেকে আমার সহকারীর কাছে ফোন আসে। রাত পৌনে নটা নাগাদ ফের আরেকটি নম্বর থেকে ফোন আসে। দুবারই ফোনে বলা হয় দেবদাস মণ্ডল, কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর ও শান্তুনু ঠাকুর আমাকে খুনের ষড়যন্ত্র করেছেন। পাঁচ লাখ টাকা নেওয়া হয়ে গেলেও আমার পরিচয় পেয়েই তাঁরা পিছিয়ে গিয়েছে বলেও জানায়।”
মন্ত্রীর অভিযোগ, যে তাঁর সহকর্মীকে ফোন করেছিল সে নিজেও ওই সুপারি কিলারদের মধ্যে একজন। এবং তারা ইতিমধ্যেই বনগাঁয় ঢুকে পড়েছে। পাঁচ তারিখ সহকারীর মোবাইলে ফোন আসার পরেই গোবরডাঙা থানায় অভিযোগ জানান জ্যোতিপ্রিয়বাবু। যে দুটি মোবাইল থেকে ফোন এসেছিল তার নম্বরও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।
এ দিকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে শান্তনু বলেন, “অ্যাক্সিডেন্ট করিয়ে আমাকে যে জ্যোতিপ্রিয়বাবু খুন করতে চেয়েছিলেন তা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। এখন তার থেকে নজর ঘোরাতেই এ সব কথা বলছেন। বনগাঁ- বসিরহাট- ব্যারাকপুর সব আসনেই এ বার হারতে হচ্ছে তৃণমূলকে। তাই পাগল হয়ে গেছেন খাদ্যমন্ত্রী। রাঁচি গিয়ে তাঁর চিকিৎসা করানো দরকার।”
বিজেপি-র স্থানীয় নেতাদের কথায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আকছার এসব মিথ্যা অভিযোগ করেন। ২০১৬ সালের ভোটের পর সংবাদমাধ্যমের একাংশকে উনি খাইয়ে দিয়েছিলেন যে সবুজ রঙের একটা টাটা সুমো নাকি ওনাকে চাপা দিতে যাচ্ছিল। উনি তখন মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন, বালু রাজ্যের মন্ত্রী। তাঁকে টাটা সুমো করে কে চাপা দিতে গেছিল তা এখনও কেন বের করতে পারল না মমতা সরকার। তিন বছর তো হয়ে গেল। এ সব যে গাল গল্প তা মানুষও এখন বুঝতে পারছে।
গোবরডাঙা থানার পুলিশ জানিয়েছে, মন্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছেন তাঁরা।