দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: পীঠ নির্ণয়তন্ত্র অনুসারে সতীর অস্থি পড়েছিল এখানে। আবার ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থে উল্লেখ সতীর কোমরের অংশ পড়ে পুণ্যভূমিতে পরিণত হয়েছিল বীরভূমের এই এলাকা। সেই থেকেই নাম কঙ্কালীতলা। বোলপুর থেকে ন’কিলোমিটার দূরে কোপাই নদীর ধারে কঙ্কালীতলায় দেবীদর্শনে আসেন বহু মানুষ। দেবী এখানে জাগ্রত। সেই বিশ্বাসেই বছরভর স্থানীয় মানুষজনের ভিড় লেগে থাকে মন্দির প্রাঙ্গণে। আবার শান্তিনিকেতনে আসা পর্যটকদেরও বছরভরের আনাগোনা লেগে থাকে।
কথিত, সত্যযুগের কোনও এক সময়ে মহাদেবের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য দক্ষ রাজা বৃহস্পতি নামে এক যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। কারণ কন্যা সতীদেবী তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বরমাল্য পরিয়েছিলেন মহাদেবকে। সেই যজ্ঞে রাজা দক্ষ একমাত্র মহাদেব ও সতীদেবী ছাড়া বাকি সব দেবতাকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। নিমন্ত্রণ না পেয়েও সেই যজ্ঞ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন সতী। সেখানে সর্বসমক্ষে পতিনিন্দা শুনে নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি তিনি। অপমানে আত্মাহুতি দেন। এরপরেই দক্ষর যজ্ঞ ভন্ডুল করে সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে শুরু হয় শোকার্ত মহাদেবের প্রলয় নৃত্য। মহাদেবকে সামলাতে বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ছেদ করেন। পৃথিবীর যে যে অংশে সতীর দেহের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে পড়েছিল তাই পরে সতীপীঠ হিসেবে পরিচিতি পায়।
কঙ্কালীতলার শক্তিপীঠে দেবী গর্ভাদেবী হিসেবে পরিচিত। আর ভৈরব এখানে রুরু নামে পূজিত হন। মন্দির সংলগ্ন কুণ্ডর জলে পাথরের বেশ কয়েকটি টুকরো দেবীর দেহের অংশ বলে বিশ্বাস ভক্তদের। প্রতি কুড়ি বছর অন্তর এই পাথরগুলি তোলা হয় কুণ্ড থেকে। বিশেষ পুজোর পর তা ফের রাখা হয় কুণ্ডের জলে। মন্দির লাগোয়া শ্মশানে গুপ্ত সাধনা করতে আসেন বহু তান্ত্রিক। কালীপুজোর রাতে তারাপীঠে সমাগম হয় লাখো ভক্তের। সেই ঢল না থাকলেও কঙ্কালীতলার সতীপীঠের টানেও আসেন বহু মানুষ। গর্ভাদেবীর বিশেষ পুজোও অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ দিনে।