দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : বারুদের স্তূপে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমডাঙার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন তৃণমূলের যুবরাজ। বৃহস্পতিবার আমডাঙার বহিসগাছি এলাকায় সভা করেন তৃণমূলের যুব সভাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেখানেই বিরোধীদের নিশানা করে তিনি বলেন, ’’এ বার বুঝিয়ে দেব কত ধানে কত চাল হয়। আমডাঙা থেকে সপ্তমী শুরু করলাম। বিসর্জন দেব দিল্লিতে।’’ যুব সভাপতির এই বক্তব্য শুনে তৃণমুল কর্মীরা মনে করছেন, এর মধ্যে দিয়ে তিনি যেমন আমডাঙার মাটিতে সিপিএমের সন্ত্রাসের মোকাবিলা করলেন, তেমনি ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পরাস্ত করারও ইঙ্গিত দিলেন।
সিপিএমের বিরুদ্ধে আক্রমন শানিয়ে অভিষেক বলেন, ’’আমডাঙ্গার মাটিতে নেতাই, নন্দীগ্রামের স্মৃতি উস্কে দিতে চাইছে সিপিএমের সুর্য মিশ্র, বিমান বসু,মহম্মদ সেলিমরা। সন্ত্রাসের মদতদাতা জাকির বল্লুক যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন আমরা তাকে খুঁজে বের করবই। আমি আমডাঙ্গার দায়িত্ব নিয়েছি। কী করে বিরোধীদের শায়েস্তা করতে হয় আমি জানি।’’
তাঁর কথায়, ’’মমতা ব্যানার্জী বদলা নয়, বদলের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তা না হলে এক সপ্তাহের মধ্যে সেলিম, সূর্যদের আমডাঙার রাস্তাতেই বুঝিয়ে দিত তৃণমূল কংগ্রেস। এখানে লড়াইটা সিপিএম শুরু করেছে। মনে রাখবেন এই লড়াইয়ের শেষটা তৃণমূল করবে। সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি যতই এক ছাতায় আসুক না কেন লাভ হবে না।’’
তাড়াবেড়িয়া পঞ্চায়েতের গঠন নিয়ে সিপিএম এবং তৃণমুলের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছিল আমডাঙ্গার বহিসগাছি,বড়গাছা সহ তাড়াবেড়িয়া এলাকা। দু পক্ষের বোমা গুলির লড়াইয়ে তৃণমূল কর্মী নাসির হালদার এবং কুদ্দুস গনি খুন হন। সিপিএম কর্মী মোজাফফর আহমেদ পিয়াদাও খুন হয়েছিলেন। এরপরেই গত দশ দিন ধরে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে প্রচুর বোমা, গুলি এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হয়েছে তিরিশ জনেরও বেশি। সিপিএম তৃণমূল দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ করেছিল। আমডাঙ্গা থানার সামনে সিপিএমের প্রতিবাদ সভা আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে পুলিশ করতে দেয়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই এলাকাতেই মিছিল এবং সভা দুইই করল তৃণমূল।
এ দিন বহিসগাছির গ্রাম থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে তপনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ধিক্কার মিছিল করে তৃণমূল। মিছিলে হেঁটেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, রথীন ঘোষ, নারায়ণ গোস্বামী-সহ জেলার অন্য নেতারা।
সভার শেষে শহিদদের উদ্দেশে এক মিনিট নীরবতা পালন করে অভিষেক জানিয়েছেন, আমডাঙার সন্ত্রাসে দুই তৃণমূল কর্মীর দুটি হাতই বোমার আঘাতে উড়ে গেছে। এই দুজনকেই কৃত্রিম হাত দেওয়ার ব্যবস্থা হবে।