
শেষ আপডেট: 6 July 2019 08:22
ওরা সবাই মায়াপুর ঠাকুর ভক্তিবিনোদ ইনস্টিটিউটের (উচ্চ মাধ্যমিক) পড়ুয়া। প্রতিদিন স্কুলের মিড ডে মিলে ভাতের সঙ্গে ডাল আর একটা তরকারি, এতেই অভ্যস্থ তারা। সেখানে এ দিন তাদের পাতে তুলে দেওয়া হল তিরিশ রকম পদ। মায়াপুরের এই স্কুল এমনিতেই ব্যতিক্রমী। ১৯৩১ সালে বৈষ্ণব সাধক ভক্তিবিনোদ ঠাকুর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্কুলটি। স্কুলের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা বৈষ্ণব রীতি। আমিষ খাওয়া মানা এ স্কুলে। তাই ১২ মাসই মিড ডে মিলে নিরামিষ। ছাত্রদের পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে দেওয়া হয় সয়াবিন বা পনির।
আর শুক্রবার তারা খেল সাদা ভাতের সাথে শাক, আলু, বেগুন, বড়ি সহ মোট ন’রকমের ভাজা, মুগ এবং মটর ডাল, আনাজের পাঁচ রকমের তরকারি, চাল কুমড়োর ঘন্ট, সয়াবিন কষা, আলুর পনিরের কারি, বাদাম সেদ্ধ, স্যালাড, চাটনি, পাঁপড় ভাজা, আর শেষ পাতে হালুয়া, পায়েস, পাটিসাপটা, গোকুল পিঠে, দই, সন্দেশ, রসগোল্লা। তুলে দেওয়া হল কাঁঠালও। জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ঘিরে এই মুহূর্তে উৎসবের পরিবেশ গোটা মায়াপুর জুড়ে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেই আনন্দে ছোটদেরও সামিল করতে একদিনের এই এলাহি ভোজের ব্যবস্থা। প্রায় তিনশো কচিকাঁচা স্কুলের বারান্দায় বসে ভোজ খেল এ দিন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জন রায় জানান, পিকনিক বা অন্য কিছু তো এখানে সম্ভব হয় না। তাই ছোটদের মুখবদলের জন্য রথযাত্রা উৎসবকেই বেছে নিয়েছি আমরা। মন্দিরে ভগবানকে ৫৬ রকম ভোগ দেওয়া হয়। ছোটদের আমরা খাওয়ালাম ৩০ রকম পদ। এ বারই আমরা প্রথম এমন খাবারের বন্দোবস্ত করেছি। আশা করি আগামীদিনেও তা চালু থাকবে। স্কুলের জমানো ফান্ড থেকেই এই ব্যবস্থা করা হয়।
রিজিয়া আর প্রতাপরা মিড ডে মিল খেয়ে উঠে বলল, “খেয়েই যাচ্ছি, অথচ শেষই হচ্ছে না। শেষের দিকে আর খেতে পারছিলাম না। কিন্তু খুব মজা হল।”