
শেষ আপডেট: 5 November 2018 08:57
প্রতিমার রূপ ও মাহাত্ম্য নিয়ে গোটা গ্রামে প্রচলিত রয়েছে অনেক কাহিনী। এলাকার বাসিন্দা মধুসূদন চন্দ্র জানান, কথিত আছে চরম দারিদ্রের মধ্যে দিনযাপন করতেন গ্রামের সরকার পরিবারের পূর্বপুরুষ বুদ্ধদেব সরকার। উদাস মনের এই মানুষটি কালী মায়ের ভক্ত ছিলেন। গ্রামের শ্মশান ঘাট লাগোয়া এলাকায় একদিন গরু চরাতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বুদ্ধদেব। বড়মা তাঁকে স্বপ্নে দেখা দেন। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করতে বলেন। বুদ্ধদেব জানান, তাঁর নিজেরই অন্নের সংস্থান নেই। দেবীকে কোথা থেকে খেতে দেবেন। তখন দেবী বুদ্ধদেবকে জানান, সামান্য চাল, কলাইভাজা আর একটু চিনি দিলেই তাঁর খাওয়া হয়ে যাবে। একই সঙ্গে বড়মা নির্দেশ দেন, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকেও প্রতিষ্ঠা করে পুজো করার। সেই থেকেই সন্তানদের নিয়েই দুর্গাকালী রূপে ওঁয়াড়ি গ্রামে পূজিতা হয়ে আসছেন দেবী।
আগে গ্রামের সরকার বাড়িতে পূজিতা হতেন বড়মা। এখন সে পুজো সর্বজনীন। মন্দিরের পুরোহিত তুষার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তন্ত্রমতেই হয় বড়মায়ের পুজো। মায়ের পুজোর ভোগ অন্নে চাই চালকলাই ভাজা ও চিনি। আগে হত মোষ বলি। এখন আর হয় না। রীতি মেনে ছাগ, আখ ও ছাঁচি কুমড়ো বলি দেওয়া হয়।” শোনা যায় একসময়ে বড়মায়ের মন্দিরের জমির পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে সাতশো বিঘা। এখন সে সব ইতিহাস। বর্তমানে ৩০-৩৫ বিঘা দেবোত্তর সম্পত্তি রয়েছে মন্দিরের নামে। সেই জমির আয় থেকেই সারা বছর বড়মায়ের নিত্য সেবা ও কার্তিক অমাবস্যায় বিশেষ পুজোপাঠের ব্যবস্থা হয়।
কালীপুজোর দিন থেকে শুরু করে সাত দিন ধরে চলে বড়মার বিশেষ পুজোপাঠ। বছরের অন্য দিনগুলিতে গ্রামের বাসিন্দাদের কেউ কর্মসূত্রে বাইরে থাকলেও পুজোর দিনগুলিতে ফিরে আসেন সবাই। উৎসবমুখর ওঁয়াড়ি গ্রামে বসে বিশাল মেলা। হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যাত্রা পালা।