
শেষ আপডেট: 4 October 2018 18:30
পাল বংশের শ্রীবৃদ্ধিও হয়েছে নফরচন্দ্রের হাত ধরেই। তাঁর বাবা চূড়ামণি আন্দুল রাজবাড়ির দেওয়ান ছিলেন। তাঁর কাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন রাজা। খুশি হয়ে বেশ কয়েক বিঘা জমি-সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের জমিদারির দায়িত্ব সঁপে দেন চূড়ামণির হাতে। নফরচন্দ্র জমিদারির পাশাপাশি ব্যবসাও শুরু করেন। তাঁর সময়েই ফুলে ফেঁপে ওঠে পাল বাড়ির পুজো। সাজসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাচ-গান-বাদ্যি-খানাপিনায় সে এক এলাহি আয়োজন।
প্রায় দু’শো বছরের পুজো। একচালাতেই সপরিবারে উমার অধিষ্ঠান। মহালয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় চণ্ডীপাঠ। পুজো দালানেই প্রতিমার মূর্তি গড়া শুরু করে দেন কুমোরেরা। ফুল দিয়ে সাজানো হয় গোটা ঠাকুর দালান। পাল বংশের পুজোর বর্তমান উদ্যোক্তা স্বরূপ পাল জানালেন, পুজোর রীতি সেই দু’শো বছর আগেরই। বৈষ্ণব মতে পুজো, তাই ছাগ বলির রেওয়াজ নেই। সপ্তমীতে কলাবউ স্নান, অষ্টমীতে বেশ ধুমধাম করে হয় সিঁদুর খেলা। এই সিঁদুর উৎসবে যোগ দেন অগণিত মানুষ। দূর দূরান্ত থেকে পাল বাড়ির পুজোর সিঁদুর খেলায় মাততে হাজির হন অনেকেই। নবমীতে কুমারী পুজো ও দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জন। বিজয়ার অনুষ্ঠানও হয় বেশ জাঁকজমকের সঙ্গেই।
স্বরূপ বাবুর কথায়, নফরচন্দ্রের আমলে বাড়ির উঠোনে যাত্রাপালা হত। নাটক, নাচ, গানে খুশির আলোর ছড়িয়ে পড়ত গোটা বাড়িতে। প্রচুর মানুষ ভিড় করে পুজো দেখতে আসতেন, তাঁদের পেটপুরে ভোগ খাওয়ানে হত। কিন্তু, এখন সেই চাকচিক্য অনেকটাই থিতিয়ে গেছে। এলাকার চার একরের একটি গোলাপবাগান নিলামে কেনার পর তা দেবোত্তর সম্পত্তি করে দেওয়া হয়। সেখান থেকে ভাড়া বাবদ যা মেলে তাই দিয়েই পুজোর খরচ করা হয়। তবে, ঐশ্বর্য কমলেও আভিজাত্যে কোনও টান পড়েনি। এ বারে না হলেও আগামী বারের পুজোতে নতুন কিছু করার ইচ্ছা রয়েছে এই বাড়ির সদস্যদের। স্বরূপবাবু বললেন, ‘‘পথ শিশুদের জন্য কিছু করতে পারলে ভাল হত। তাদেরও পুজোর আনন্দে শরিক করে নিতে চাই আমরা।’’