
শেষ আপডেট: 3 October 2018 18:30
এই পুজোতে ছাগ বলি হয় না। প্রাচীন রীতি এটাই। অবশ্য চাল কুমড়ো বলি হয়। একটা সময় পুজোর চাকচিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। গ্রাম উজিয়ে লোকজন আসত পুজো দেখতে। ভিয়েন বসত, জলসা হত। আলোয় সেজে উঠত গোটা গ্রাম। অবাধে বস্ত্র বিতরণ, কাঙালি ভোজন হত বাড়ির দাওয়ায়। জনশ্রুতি আছে, মুখোপাধ্যায় পরিবার এতটাই দানধ্যান করতেন যে পুজোর সময় বৈদ্যবাটি স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেন এসে দাঁড়াত। সেই ট্রেনে রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের নানা জায়গা থেকে কাঙালিরা পুজো দেখতে আসতেন। তাঁদের ভোগ বিতরণ ও বস্ত্র দান করা হত।
এখন অবশ্য সেই জৌলুস অনেকটাই মিইয়ে গেছে। সেই ঐশ্বর্যেও টান পড়েছে। তবে পুজোর নিয়ম নীতি নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করে আসছেন মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যেরা। মায়ের ভোগে এখনও অন্ন-ব্যঞ্জনের সঙ্গে সাজিয়ে দেওয়া হয় ইলিশ মাছের টক। রসিয়ে রান্না করা ইলিশের টক নাকি মায়ের খুবই প্রিয়। এতেই তৃপ্ত হন সর্ব তাপহন্তা অভয়দায়িনী।
এক সময় পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নিয়মিত যাতায়াত ছিল এই মুখোপাধ্যায় বাড়িতে। শোনা যায় বিধবা বিবাহের প্রচলন এই বাড়ির দাওয়াতে বসেই নেওয়া হয়েছিল। অবাধ যাতায়াত ছিল ব্রিটিশ সাহেবদেরও। মুখোপাধ্যায় পরিবারেরই তিন জনের নামে সিঙ্গুর,বৈদ্যবাটি ও চাঁপদানিতে স্কুল রয়েছে। তৈরি হয়েছে রাস্তাও। এই পরিবারের বর্তমান বংশধর রমাকান্ত মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘আগে যে পুজো হত তাতে বড় করে কাঙালি ভোজন হত, বস্ত্র বিতরণ করা হত। দূর দূর থেকে লোকজন আসত। এখন সে জৌলুস নেই।’’
সংরক্ষণের অভাবে জমিদারবাড়ির এখন তথৈবচ দশা। বাড়ির সদস্যেরা সবাই কর্মসূত্রে শহরের বাসিন্দা। পঞ্চাশটিরও বেশি ঘর খালি পড়ে রয়েছে। পরিচর্যার অভাবে নাটমন্দিরের দশাও ভগ্নপ্রায়।
তবে জৌলুস ফিকে হলেও পুজোর চারটে দিন পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন। আড্ডা-গান-বাজনায় ভরে ওঠে উৎসব প্রাঙ্গন। ঢাকের বোলে বেজে ওঠে বোধনের সুর।