দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বিকেলবেলা হঠাৎ মাঝেরহাট ব্রিজের একাংশ হুড়মুড় করে ভেঙে পড়তেই আতঙ্ক ছড়ালো আবার। ফিরল পোস্তা সেতুর স্মৃতি। ফিরল শিলিগুড়ির স্মৃতিও। আবার উঠল প্রশ্ন, সেতুর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে তবে কি হুঁশ ফেরেনি কারও।
রাজ্যের মন্ত্রী ও পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের একাংশ অবশ্য মেট্রোরেলের কাজের জন্যই এই ঘটনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। মেট্রোর কাজে ভাইব্রেটর ব্যবহারের প্রভাবেই এই বিপত্তি বলে জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু পাশাপাশি এই বক্তব্যও উঠে আসছে, সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ যদি ঠিকমতো হতো, তবে হয়তো মেট্রোর কাজের প্রভাব এতো প্রকট হত না। রাজ্যপাল এলাকা পরিদর্শনে গিয়েও রক্ষণাবেক্ষণের খামতির দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, ব্রিজ রক্ষণাবেক্ষণে আরও যত্ন নেওয়া উচিৎ ছিল।
জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা রেলের এক প্রাক্তন কর্তা বলেই ফেললেন, “দায়িত্ব পালনে অনীহার কারণেই শহরের বুকে ফের ভেঙে পড়ল সেতু। রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি তো ছিলই। না হলে সেতু ভাঙবে কেন?”
৪০ বছরেরও বেশি সময় আগে তৈরি হয়েছিল মাঝেরহাট সেতু। শিয়ালদহ-বজবজ রেল লাইনের দু পাশের অংশকে জোড়ার জন্য। সাধারণভাবে রাজ্যের পাশাপাশি রেলেরও আংশিক দায় থাকে এই সেতু রক্ষণাবেক্ষণের। তবে রেলের ওই প্রাক্তন আধিকারিক জানান, সেতু নির্মাণের সময় রক্ষণাবেক্ষণের দায় কার কতটা সেই চুক্তি হয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী রেল লাইনের উপর দিয়ে যাওয়া অংশটুকুই শুধু মাত্র রেলের দায়িত্বে থাকে। বাকি অংশ দেখভালের দায়িত্ব থাকে রাজ্যের।
সেতু ভাঙায় কার দায় কতটা সে বিচার না করে গাফিলতির প্রশ্নটাকেই সামনে আনতে চান তিনি। তাঁর মতে এত বছরের পুরনো সেতুর নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অর্থহীন। রক্ষণাবেক্ষণটাই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। দেখভাল, মেরামতি কোনটাই যে ঠিক মতো হয়নি ব্রিজ ভেঙে পড়ায় তা প্রমাণ হয়ে গেছে। এলাকার মানুষও এই সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ হয় না বলে অভিযোগ করেছেন।
রাজ্য সরকার অবশ্য বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। আপাতত উদ্ধার কাজেই সর্বাধিক গুরুত্ব। পাহাড় থেকে সেই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।