নামতে পারেননি অসুস্থ বন্দি, বিচারক নিজেই গেলেন প্রিজন ভ্যানে
কিরণ মান্না, পূর্ব মেদিনীপুর : এ যেন সেই ইশ্বর ও পর্বতের গল্প। পর্বত আসতে পারেনি, তাই ইশ্বরকেই যেতে হল পর্বতের কাছে। শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল মঙ্গলবার। তাই সকাল সকালই মেদিনীপুর জেল থেকে কাঁথি মহকুমা আদালতে নিয়ে আসা হয়েছিল অভিযুক্তকে। কিন্
শেষ আপডেট: 4 September 2018 15:24
কিরণ মান্না, পূর্ব মেদিনীপুর : এ যেন সেই ইশ্বর ও পর্বতের গল্প। পর্বত আসতে পারেনি, তাই ইশ্বরকেই যেতে হল পর্বতের কাছে।
শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল মঙ্গলবার। তাই সকাল সকালই মেদিনীপুর জেল থেকে কাঁথি মহকুমা আদালতে নিয়ে আসা হয়েছিল অভিযুক্তকে। কিন্তু এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে নামানো যায়নি প্রিজন ভ্যান থেকে।
তাই বলে কী বিচার পাবেন না ?
নিজের এজলাসে বসে সে খবর শুনেই বেরিয়ে এলেন কাঁথি আদালতের জেলা অতিরিক্ত দায়রা জজ অলি বিশ্বাস। পৌঁছে গেলেন প্রিজন ভ্যানের সামনে। তৈরি হয়ে গেল অস্থায়ী আদালত। উভয় পক্ষের আইনজীবীরাও প্রিজন ভ্যানের ভেতরে গিয়ে সওয়াল করলেন। নজিরবিহীন এই ঘটনায় রীতিমতো অভিভূত কাঁথি আদালতের অন্যান্য বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।

২০১৬ সালে পারিবারিক অশান্তির জেরে খুন হয়েছিলেন রামনগরের বাসিন্দা পরমেশ্বর পাত্র। পরমেশ্বরবাবুর স্ত্রীর বাসন্তী পাত্রের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় তাঁদের ছেলে তপন পাত্রকে। সেই থেকে মেদিনীপুর জেলেই রয়েছেন বছর ৩৫ এর তপন। রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। অভিযোগ, হঠাৎ রাগে বাবাকে মাথায় শিলনোড়া দিয়ে আঘাত করেছিল তপন। তাতে মৃত্যু হয় তাঁর বাবার।
জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, জেলে আসার পর থেকে অনুশোচনায় দগ্ধ হচ্ছেন তপন। একবার জেলের দেওয়ালে মাথা ঠুকে মাথাও ফাটিয়ে ফেলেছিলেন। ইদানিং মানসিক ভারসাম্যের অভাবও দেখা যাচ্ছে। শুনানি থাকায় রীতিমতো অসুস্থ অবস্থাতেই এ দিন আদালতে আনা হয়েছিল তপনকে। কিন্তু প্রিজন ভ্যান থেকে নামতে পারেননি। শুয়ে ছিলেন গাড়ির সিটে।
এ কথা জানতে পেরেই তাঁকে সাহায্য করতে বিচারক এ দিন অস্থায়ী এজলাস তৈরি করলেন প্রিজন ভ্যানের বাইরে। প্রয়োজনে এমন অস্থায়ী এজলাস তৈরি করতে পারেন বিচারক। এ কথা জানেন আদালতের অনেকেই। কিন্তু এমনটা চোখে দেখেননি কখনও।