দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া : শাসক দলের বহু চর্চিত 'কাটমানি' বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল পাত্রসায়র থানা এলাকার হাটকৃষ্ণনগরে। সাধারণ মানুষের চাপে স্থানীয় চার তৃণমূল কর্মী কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাড়ি পাওয়া উপভোক্তাদের কাছ থেকে 'কাটমানি' নেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে নিজেদের ‘চোর’ অভিহিত করে মুচলেকা দিলেন। তারপরেই ছাড়া পেলেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, পাত্রসায়রের হাটকৃষ্ণনগর গ্রামের বাবু বাউড়ি, ইন্দ্রজিৎ বাউড়ি, রঘুনাথ সাঁতরা ও বিপুল বাউড়ি নামে চার তৃণমূল কর্মীকে গ্রামবাসীরা 'কাটমানি' নেওয়ার অভিযোগে পাকড়াও করে। তাদের আটকে রেখে শুরু হয় বিক্ষোভ। এরপরেই স্থানীয় কাঁকরডাঙা মোড়ে সবার উপস্থিতিতে সালিশি সভা বসে। সেখানে চার অভিযুক্ত 'কাটমানি' নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও দলের স্থানীয় নেতৃত্বের নির্দেশে তারা এই কাজ করেছে বলে দাবি করে। পরে ওই চার অভিযুক্ত 'আমরা চোর, তৃণমূল কংগ্রেস' লেখা মুচলেকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পেয়েও ওই চার অভিযুক্তকে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা 'কাটমানি' দিতে হয়েছে, বলে দাবি করেন শেফালি বাউড়ি, নির্মলা বাউড়িরা। তাঁরা বলেন, “ওই টাকা আমরা ফেরত চাই। টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের ছাড়া হবে না।” গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গরিব উপভোক্তাদের ভয় দেখিয়ে এরা টাকা আদায় করেছে। কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে তাদের আটকে রাখা হয়েছে।
অভিযুক্ত বাবু, ইন্দ্রজিৎ ও অন্য দুজন সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেন, তারা সাধারণ গরিব উপভোক্তাদের কাছ থেকে কাটমানি নিয়েছেন। তারা বলেন, “আমরা ইন্দিরা আবাস যোজনায় টাকা তুলেছি। টাকার পরিমাণ প্রায় সাত লক্ষ। তবে পুরো কাজটাই তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের নির্দেশে করেছি।”
https://www.youtube.com/watch?v=Jx2KvxbeDtE&feature=youtu.be
তৃণমূলের জেলা সভাপতি (বিষ্ণুপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) শ্যামল সাঁতরার দাবি, "এঁরা গরিব মানুষ। এঁদের প্রাণে মারার ভয় দেখিয়ে হাতে প্ল্যাকার্ড ধরিয়ে এসব কথা বলতে বাধ্য করছে বিজেপি।"
তবে জেলা বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, "এ সব বলে পার পাওয়া যাবে না। মানুষ যা বোঝার সব বুঝে নিয়েছেন।"
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য সভায় দলের কর্মীদের কাটমানি খাওয়া নিয়ে সরব হয়েছিলেন। কাটমানি ফেরতেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। বহু জায়গাতেই এতদিন মুখ বুজে সহ্য করলেও মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে পেয়ে কাটমানি নিয়ে সরব হন বাসিন্দারা। প্রায় প্রতিদিনই কোনও না কোনও জায়গায় বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের। বেশ কয়েকটি জায়গায় টাকা ফেরত দিয়ে নিষ্কৃতি পেতে হয়েছে নেতাদের। আজ 'চোর' বলে মুচলেকা দিয়ে তবেই রেহাই।