দ্য় ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান : সুপার সাইক্লোন ফণীকে নিয়ে যতটা উদ্বেগ ছড়িয়েছিল, ততটা আঘাত হানেনি। কিন্তু এর জেরে বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ল জেলার বোরো চাষ। শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের চাষিদের মাথায় হাত। সপ্তাহ দেড়েক আগে কালবৈশাখীর ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ভাতারের বিভিন্ন জায়গায় ধানের মারাত্মক ক্ষতি হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফণীর আগমন।
ঝড়ের হাত থেকে রেহাই পেলেও দিনভর ও রাতের লাগাতার বৃষ্টিতে জমিতে জল দাঁড়িয়ে গেছে। কোন কোন জমিতে কাটা ধান জলে ভাসছে।ফলে চরম সংকটে জেলার বোরোচাষীরা।এদিন সকাল থেকেই চাষীরা নেমে পড়েছেন মাঠে। পুরুষদের পাশাপাশি বাড়ির মহিলারাও হাত লাগিয়েছেন মাঠ থেকে ধান তোলার কাজে। কাটা ধান জল থেকে তুলে খামারে নিয়ে যাচ্ছেন চাষীরা।
ভাতারের মুরাতিপুর গ্রামের চাষি নুর হোসেন শেখ বলেন, ‘‘ ধারদেনা করে বোরোচাষ করেছিলেন। বিঘে প্রতি বোরোধানের চাষ করতে গড়ে খরচ হয়েছে দশ থেকে বারো হাজার টাকা। সবই জলে গেল।’’
ধান রোয়া থেকে ধান কাটা সব নিয়ে গত কয়েক বছরে চাষের উৎপাদন খরচ বেশ বেড়েছে অনেকটাই। বেড়েছে শ্রমিক সমস্যাও। ফলে শস্যগোলার চাষীরা ভালো নেই। একদিকে কালবৈশাখীর ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে দিন দশেক আগে ভাতারের বামসোর, সাহেবগঞ্জ, ভূমসোর গ্রামের বোরোধানের ক্ষতি হয়। পাকা ধান এখন জলে ভাসছে। তার উপর ফণী যেন গোদের উপর বিষফোঁড়া।
এখন চাষিদের যা অবস্থা ,লাভ তো দূরের কথা আসল টাকাটাই ঘরে উঠবে কি না ঘোর সন্দেহ। ফণী প্রভাবিত জলে শুধু ভাতার নয় বোরোচাষের জমিতে জল দাঁড়িয়েছে আউশগ্রাম, গলসি, রায়না কিংবা খণ্ডঘোষের বিভিন্ন জায়গাতেও। তবে জেলা কৃষি আধিকারিক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এখনই ক্ষয়ক্ষতির হিসাব বলা সম্ভব নয়। সব ব্লকের কৃষি আধিকারিকদের রিপোর্ট পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’