
শেষ আপডেট: 1 October 2018 18:30
ইতিহাস ঘাঁটলে খোঁজ মিলবে এই পুজো শুরু হয়েছিল মহারাজ তেজচাঁদের আমলে। তেজচাঁদের বাবা রাজা ত্রিলোকচন্দ্রের আমলে রাজ্যে বিপর্যয় নেমে এসেছিল। এক দিকে মারাঠা বর্গীদের হানা ও অন্য দিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আক্রমণ। একের পর এক যুদ্ধ। এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতেই অকালমৃত্যু হয় রাজা ত্রিলোকচন্দ্রের। ছেলে তেজচাঁদ বরাবরই আপনভোলা। রাজ্যপাটে মন নেই। শেষে, রাজ্যের উপর ঘনিয়ে আসা কালো মেঘ কাটাতে রাণি বিষণকুমারী শুরু করলেন পটেশ্বরী দেবীর পুজো। আগে রাজবাড়িরই একটি অংশে হত পুজো। এখন সেই স্থানের ভগ্নদশা। তাই পুজোর নতুন ঠিকানা হয়েছে রাজবাড়ির লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর মন্দির।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৫০ সালে রাজত্ব চলে যায় বর্ধমানের রাজবাড়ির। শেষ রাজা উদয়চাঁদ বর্ধমান ছেড়ে চলে যাওয়ার পর পুজো একসময় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফের উদয়চাঁদেরই উদ্যোগে নতুন করে ঢাকে কাঠি পড়ে। রমরম করে শুরু হয় পুজো। বংশপরম্পরায় এই পুজো করে আসছেন রাজপরিবারের সদস্যেরা।
পটেশ্বরী দুর্গা এখানে স্বর্ণবর্ণা। দশ হাতে দশ অস্ত্র শোভিতা দেবী সপরিবারে এক ছাদের তলায় শোভিতা। প্রায় সাড়ে সাত ফুট বাই সাড়ে পাঁচ ফুট কাঠের ফ্রেমে বাঁধানো ছবি। গাঢ় সবুজ রঙা মহিষাসুরকে বধ করছেন দেবী। হলুদ রঙের সিংহের মুখ এখানে ঘোড়ার মতো। প্রতি ১২ বছর অন্তর প্রতিমায় রঙের প্রলেপ পড়ে। রাজপরিবারের এই পুজোর ঐতিহ্য এখনও টিকিয়ে রেখেছেন মহারাজ ড: প্রণয়চাঁদ মহতাব।
পুজোর রীতি হয় সম্পূর্ণ বৈষ্ণব নিয়ম মেনে। প্রতিপদে ঘট বসিয়ে শুরু হয় পুজোর সুচনা। অষ্টমী-নবমীতে লুচি, হালুয়া ভোগ দেওয়া হয়। চলে চণ্ডীপাঠ ও হোম। অষ্টমীর রাতে গুজরাটি সম্প্রদায়ের লোক ডান্ডিয়া নাচের আসর বসায় রাজবাড়িতে। এই প্রতিমার বিসর্জন হয় না। সারা বছরই রাখা থাকে রাজবাড়িতে। নিত্য পুজো পান দেবী।
তবে, এখন রাজদরবারের ভগ্ন দশা। মন্দিরের অবস্থাও তথৈবচ। ভেঙে পড়ছে দেওয়াল। রঙ চটে গিয়েছে আগেই। দেওয়ালে খোদাই করা নানা টেরাকোটার কাজসংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে ভগ্ন দেউলেও জমজমাট পটেশ্বরীর পুজো। প্রতিবছর পুজো উপলক্ষ্যে নতুন করে সেজে ওঠে রাজবাড়ি। শিউলি ফুলের গন্ধে আগমনীর বাঁশি বেজে ওঠে। তাতেই সাড়া পড়ে যায় গোটা রাজবাড়িতে। পুজো পুজো আনন্দে মেতে ওঠে গোটা বর্ধমান।