বিদ্যাসুন্দর কাব্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কালীমন্দিরে আজও মাতৃ আরাধনা
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান: সেই সুড়ঙ্গ কোথায়, আজ আর কেউ বলতে পারে না। তবে গল্প কথা রয়ে গেছে। এই সুড়ঙ্গ দিয়েই নাকি রাজকন্যা বিদ্যার সঙ্গে গোপনে দেখা করতেন সুন্দর।
দক্ষিণ মশান কালীর মন্দিরের গরিব পুজারীর সন্তান সুন্দর। একদিন মালিনীর কাছে পরম
শেষ আপডেট: 2 November 2018 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান: সেই সুড়ঙ্গ কোথায়, আজ আর কেউ বলতে পারে না। তবে গল্প কথা রয়ে গেছে। এই সুড়ঙ্গ দিয়েই নাকি রাজকন্যা বিদ্যার সঙ্গে গোপনে দেখা করতেন সুন্দর।
দক্ষিণ মশান কালীর মন্দিরের গরিব পুজারীর সন্তান সুন্দর। একদিন মালিনীর কাছে পরম সুন্দর একটি মালা দেখে জানতে চেয়েছিলেন, কে গেঁথেছে সেটি? মালিনী জানান, মালা গেঁথেছে রাজকুমারী বিদ্যা। রাজকুমারীর সঙ্গে দেখা করতে চায় সুন্দর। প্রণয়ের সেই শুরু। রাজবাড়ি অবধি সুড়ঙ্গ কেটে ফেলে সুন্দর। তবে ধরা পড়লেই যে নিশ্চিত মৃত্যু দুজনেই জানতেন তা। বিদ্যা আর সুন্দরের গভীর প্রণয়ের সম্পর্ক রাজার কানে পৌঁছে দেয় চরেরা।

রাজা মন্দিরে দেবীর সামনেই মেয়ে বিদ্যা আর তাঁর প্রেমিককে বলির নির্দেশ দেন। বলির আগের মুহূর্তে মায়ের কাছে প্রণাম জানানোর অনুরোধ করে সুন্দর। ক্ষণিকের সেই মুহূর্তে মূর্ছিত হয় কাপালিক। অন্তর্ধান করে বিদ্যা আর সুন্দর।
এগারো শতকে কবি বিলহনের লেখা এই কাব্য অষ্টাদশ শতকে রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের লেখনী ছুঁয়ে পৌঁছে গিয়েছিল বাঙালির ঘরে ঘরে। বর্ধমানের তেজগঞ্জের বিদ্যাসুন্দর কালী সেই কাব্য আর কল্পনার রসে আজও জারিত। রাজা তেজচাঁদের আমলে মন্দিরের বর্তমান সেবায়েত বংশ নাকি বাঁকুড়া থেকে এসে এই মন্দিরের দেবসেবার ভার নিয়েছিলেন।
বর্তমান প্রজন্মের সদস্য আভা বটব্যাল জানালেন, একসময় এই মন্দিরের নিত্যপুজোর ভোগ খেয়ে বেঁচে থাকতেন এলাকার বহু মানুষ। এখন সে দিন আর নেই। তবে নিষ্ঠা মেনে পুজো হয় প্রতি কালীপুজোর রাতেই। তারপর আবার আড়ালেই থেকে যান তিনি। পরের বছরের দীপাবলী পর্যন্ত।