দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর : ঘটনার এক বছর সাড়ে তিন মাস পর লালগড়ে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মৃত্যু রহস্যের কিনারা করতে আসছে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেটিভ অথরিটি।
২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল লালগড়ের বাঘঘোরার জঙ্গল থেকে মিলেছিল একটি পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের দেহ। একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছিল বাঘটির শরীরে। জঙ্গলে শিকার উৎসব চলাকালীন বাঘটিকে মারা হয় বলে অভিযোগ উঠেছিল।
২০১৮ সালের মার্চ মাসে বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়ে ছিল লালগড়ে। প্রায়ই গ্রামের গরু-ছাগল জঙ্গলে চরতে গিয়ে আর ফিরে আসতো না। বন দফতরের কর্মীরা প্রাথমিক ভাবে ভেবেছিলেন, নেকড়ে বা হায়নার দলের শিকার হচ্ছে এই গরু-ছাগলগুলো। নিশ্চিত হতে জঙ্গলে ট্র্যাফ ক্যামেরা বসায় বন দফতর। সেখানেই ধরা পড়ে বাঘের ছবি।
এই ছবি ধরা পড়তেই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। শুরু হয় বাঘ ধরার প্রস্তুতি। জঙ্গলে ছাগলের টোপ দিয়ে বসানো হয় খাঁচা। পরে অবশ্য বাঘের রুচি দেখে পরিবর্তন করা টোপ। ছাগলের বদলে খাঁচায় রাখা হয় শুয়োর। কিন্তু ধরা যায়নি তাকে। মাস খানেকের মধ্যে আদিবাসীদের শিকার উৎসব চলাকালীন বাঘঘোরার জঙ্গলে শিকারিদের হাতে মৃত্যু হয় বাঘটির। পরে জানা যায়, হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উড়িষ্যার শিমলিপাল অভয়ারণ্য থেকে লালগড়ের জঙ্গলে চলে এসেছিল বাঘটি।
মৃত বাঘের শরীরে পাওয়া গিয়েছিল একাধিক আঘাতের চিহ্ন। বাঘের মৃত্যুর পরেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে বন দফতর। তবে এক বছরেরও বেশি সময় কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।
ঘটনার পরেই কেন্দ্রের অধীনস্থ ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেটিভ অথারিটি রাজ্যের বক্তব্য তলব করে। রাজ্য বনদফতরের দেওয়া উত্তরে মোটেই সন্তুষ্ট হয়নি এনটিসিএ। বাঘ মৃত্যুর এক বছর তিন মাস পর ন্যাশনাল কনজারভেটিভ অথারিটির পূর্বাঞ্চলীয় দফতর থেকে রাজ্যে আসছেন ডাবলু লংভা নামে আইজি পদমর্যাদার একজন অফিসার। জানা গেছে, ঘটনাস্থলে যাবেন তিনি, কথা বলবেন স্থানীয়দের সঙ্গে।
রাজ্যে তৎকালীন বনদফতরের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করবেন তিনি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তিনি ফের রিপোর্ট দেবেন কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রককে।
এত দিন পরে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে কী উঠে আসে সেটাই এখন দেখার বিষয় রাজ্য বন দফতরের।