দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: একটি ক্যানেল সংস্কারকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের বালিঘাই। দফায় দফায় চলে পথ অবরোধ। অবরোধ তুলতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশ। ইটের ঘায়ে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন।
বর্ষা এসে গেল প্রায়, এখনও ক্যানেল সংস্কার না হলে জলে ভাসবে লাগোয়া আট দশটি গ্রাম। তাই বাসিন্দারা বারবার এই ক্যানেল সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, সেই কাজ করতে গিয়ে ক্যানেলের ধারে থাকা দোকান ঘরগুলি ভাঙা নিয়ে রাজনীতি করছে প্রশাসন। বালিঘাই বাজারে সাধারণ মানুষের দোকান ভেঙে দিলেও এলাকার প্রভাবশালী কিছু বাসিন্দার দোকানঘরগুলি অটুট। আর সেই কারণেই আটকে রয়েছে খাল সংস্কারের কাজ। বাসিন্দারা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমরা খাল সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু শুধুমাত্র ওই দোকানগুলি ভাঙা হবে না বলেই খাল সংস্কার হচ্ছে না।”
এরই প্রতিবাদে আজ দুপুর বারোটা থেকে এলাকায় পথ অবরোধ শুরু করেন বাসিন্দারা। অবরোধ তোলার অনুরোধ নিয়ে এগরা (২) এর বিডিও রানি ভট্টাচার্য ঘটনাস্থলে গেলে দুর্ব্যবহার করে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছতেই শুরু হয় ধুন্ধুমার। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করে জনতা। ভাঙচুর করা হয় অবরোধে আটকে পড়া একাধিক গাড়ি। ইটের ঘায়ে জখম হন বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী।
লাঠি নিয়ে বেশ কয়েকবার ধেয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু বিকেল গড়ালেও অবরোধ চলতে থাকে। টানা প্রায় ছ'ঘন্টা অবরোধ চলার পর পাঁচটি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা চালায়। ঘটনাস্থলে যান জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহ অন্যান্য পদস্থ কর্তারা। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা কোনও কথা না শুনে ফের বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে উদ্যত হয়। পুলিশের তাড়া খেয়ে সব বিক্ষোভকারীরা হটে যায়। তারপর যানজট মুক্ত করে পুলিশ। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেই জানিয়েছে পুলিশ।