দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: ভোটের পর দুদিন কাটলেও এখনও হিংসা জারি রয়েছে বীরভূমে। মঙ্গলবার রাতেও তুমুল সংঘর্ষ বাধে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে লাভপুর থানার ঠিবা গ্রাম।
বিজেপির অভিযোগ, লোকসভা ভোটের আগে থেকেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিল। বুথে কোনও পোলিং এজেন্ট দিলে তার ফল ভাল হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। তাঁরা জানান, সে সব উপেক্ষা করেই ভোটের দিন বিভিন্ন বুথে পোলিং এজেন্ট দিয়েছেন তাঁরা। তারপর থেকেই ফের হুমকি শুরু হয়।
এরপর মঙ্গলবার রাতে ওই গ্রামে বিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে তাঁদের বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। বোমাবাজিতে সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। আহত চার বিজেপি কর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই গতকাল রাতভর তাণ্ডব চালিয়েছে গোটা এলাকায়।
বিজেপির জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলেন, “গোটা জেলাতেই ভোটের আগে থেকে সন্ত্রাস চালাচ্ছে ওরা। ভোট মিটলেও তা শেষ হচ্ছে না। লাভপুর কোনও ব্যতিক্রম নয়। আসলে মানুষের রায় বিজেপির দিকে বুঝে গিয়েই সন্ত্রাসের পথ ধরেছে ওরা।” তৃণমূলের লাভপুর ব্লক সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী বলেন, “তৃণমূলের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ নেই। বিজেপির দলের কোন্দলেই এই মারধরের ঘটনা। আমরা মারধর, সংঘর্ষের রাজনীতি করি না।”
একই দিনে ইলামবাজারের পাইকুনি গ্রামে সিপিএমের এক পোলিং এজেন্টের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিপিএমের পোলিং এজেন্ট শেখ খিলাফতের বাড়িতে এ দিন রাতে আগুন লাগিয়ে দেয় কিছু দুষ্কৃতী। সেই সময় সে খিলাফত ও তাঁর পরিবারের লোকজন ঘরেই ছিলেন। আগুন লাগানোর পর তাঁরা যাতে কোনওভাবে ঘর থেকে বেরোতে না পারে তারজন্য বাড়ি ঘিরে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। পরে অবশ্য পড়শিদের তৎপরতায় দরজা ভেঙে অক্ষত অবস্থাতেই বাইরে আসেন তাঁরা।
সিপিএম এর জেলা কমিটির সদস্য কামাল হোসেন বলেন, পোলিং এজেন্ট হওয়ায় শেখ খিলাফতকে বারবারই হুমকি দিচ্ছিল তৃণমূল। গতকাল রাতে তাঁর বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। জেলার সবর্ত্র এ ভাবেই বিরোধীদের উপর হামলা চালাচ্ছে শাসকদল।
তবে তৃণমূলের ইলামবাজার ব্লক সভাপতি দুলাল রায় বলেন, “মুষ্টিমেয় কিছু বিজেপি ও সিপিএম বিভিন্ন জায়গায় একত্রিত হয়ে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। ইলামবাজারের ঘটনা তারই একটি নমুনা। এর সঙ্গে আমাদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই।”
এ দিকে নানুরের গোপদিহি গ্রামেও মঙ্গলবার রাতভর চলে বোমাবাজি। বেশ কিছু বাড়িও ভাঙচুর হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, কোন বুথে বেশি লিড হবে সেই নিয়ে তৃণমূলের মধ্যেই ঝামেলার সূত্রপাত হয়। তবে শাসকদলের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।