দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন জানিয়ে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছিল ছেলে। তারই জেরে মাকে প্রস্রাব খাওয়ানোর ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠল কয়েকজন দুষ্কৃতীর বিরূদ্ধে। এরা প্রত্যেকেই তৃণমূল আশ্রিত বলেও অভিযোগ। বৃহস্পতিবার রাতে ধনেখালি থানার বোসো গ্রামে ওই ঘটনা ঘটার পরে এখনও থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। কারণ সে রাতে দুষ্কৃতীদের মারে জখম পরিবারের তিন সদস্যই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বোসো গ্রামের রামেশ্বরবাটি এলাকায় মা-বাবাকে নিয়ে থাকেন হরিভক্ত মণ্ডল। পেশায় তিনি গৃহশিক্ষক। হরিভক্ত জানান, কিছু দিন আগে নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন করে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন তিনি। এরপর বেশ কয়েকবার তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি যখন ঘরে ছাত্র পড়াচ্ছিলেন তখন জনা ৩০ দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। ঘর থেকে বের করে ব্যাপক মারধর করা হয় তাঁকে।
হরিভক্তর বাবা রঞ্জিত মণ্ডল ও সবিতা মণ্ডল ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাঁদের উপর চড়াও হয় ওই দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয় ওই প্রৌঢ়া দম্পতিকে। এরপরেই সেই ভয়ঙ্কর কাণ্ড। গুরুতর জখম অবস্থায় সবিতাদেবী একটু জল খাওয়ার আর্তি জানালে তাঁর মুখে প্রস্রাব করে দেওয়া হয়। বেশ খানিকটা সময় ধরে তাণ্ডব চালানোর পরে চলে যায় তারা। এরপর বাসিন্দাদের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিবারের সবাইকে উদ্ধার করে প্রথমে ধনেখালি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু তিনজনেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের পাঠানো হয় চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে। সেখানেই এখনও ভর্তি রয়েছেন তাঁরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি এখনও। তবে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছেন। আজ জেলার এসপির সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপিও দিতে যান বিজেপি নেতৃত্ব। এসপি সুকেশ জৈন না থাকায় অ্যাডিশনাল এসপি ঈশানী পালের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর জন্য ওই পুলিশ আধিকারিক তাঁদের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিজেপির জেলা সভাপতি সুবীর নাগ। কেন থানায় না গিয়ে ডাকে অভিযোগ জানানো হল, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে কেউ সেই অভিযোগ নেয় না। তাই ডাকে অভিযোগ পাঠিয়েছি আমরা।”
দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে ধনেখালির ঘটনার খবর পৌঁছনোর পরেই সোমবার দলের প্রতিনিধিরা হাসপাতালে গিয়ে আক্রান্তদের সঙ্গে দেখা করে বলেও জানিয়েছেন সুবীরবাবু। প্রতিনিধি দলে ছিলেন, জয় ব্যানার্জি ও নাজিয়া ইলাহি খাতুন। আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরলে তাঁদের নিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ দিকে হুগলি জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি প্রবীর ঘোষাল বলেন, “ধনেখালির ঘটনা যদি সত্যি হয় তা হলে তা ভয়ঙ্কর। প্রশাসনকে বলব তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে। দলীয়ভাবেও বিষয়টি দেখা হবে।” তবে একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, বিজেপি সব সময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। তাই খতিয়ে দেখা হবে।
জেলার পুলিশ সুপার অবশ্য এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাননি।