দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত পরিচালক জয়ন্ত ভট্টাচার্য ছিলেন উত্তমকুমারের ঘনিষ্ঠ। তিনি ছিলেন তাঁর ভাই তথা অভিনেতা বিভু ভট্টাচার্যের পথপ্রদর্শক, একথা জানিয়েছেন তাঁর পুত্রবধূ চন্দ্রাণী ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছেন, স্টুডিও পাড়ার জয়ন্ত ভট্টাচার্যের পরিচয় হয় পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে।
ওঁর ছোট ভাই বছর পাঁচেকের মাস্টার বিভু যখন ফ্লোরে 'প্রহ্লাদ', 'ধ্রুব', 'রানি রাসমণি' প্রভৃতি ছবিতে অভিনয় করছেন তখন তাঁর সদ্য যুবক দাদা অনেক পরিচালকের সংস্পর্শে আসতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে পরিচয় ঘটে অরোরার অজিত বসু, অগ্রদূতের বিভূতি লাহা প্রমুখের। ১৯৫২ সালে বিভু অভিনয় করেন অগ্রদূতের 'আঁধি' ছবিতে। তত দিনে জয়ন্ত ভট্টাচার্য যোগ দিয়েছেন ‘অগ্রগামীতে। 'অগ্রগামী'র প্রথম ছবি 'সাগরিকা' ও 'শিল্পী' ১৯৫৬ সালে মুক্তি পায়। সরোজ দে, নিশীথ বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্বতী বন্দ্যোপাধ্যায় ও জয়ন্ত ভট্টাচার্য্যদের মিলিত প্রচেষ্টায় এই ছবি নির্মিত হয়। এরপরে একের পর এক মাইলস্টোন ছবি তাঁরা দর্শকদের উপহার দিয়েছেন যার তালিকায় রয়েছে 'কান্না', 'নিশীথে', 'ডাকহরকরা', 'হেডমাস্টার' প্রভৃতি।
‘হেডমাস্টার’-এ ছবি বিশ্বাসকে দেখে সত্যজিৎ রায়ের গুণমুগ্ধ চিত্রসমালোচক মারি সিটন বলেছিলেন “রায়ও ছবি বিশ্বাসকে এভাবে ভাঙাতে পারেননি।” 'কান্না' ও 'নিশীথে' ছবি সিনেম্যাটোগ্রাফি সম্বন্ধে স্টেটসম্যান সংবাদপত্রে তখন লেখা হয়েছিল, “এ ছবির ক্যামেরা গোটা ছবিকে যেন অতিক্রম করে গেছে।” সেই ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফার রামানন্দ সেনগুপ্ত বলেছিলেন, “আসলে জয়ন্ত (ভট্টাচার্য) আমায় এমন ভাবে সিচুয়েশন বোঝাত যে আমার হাত দিয়ে আলো, ছবি - সব যেন আপনিই বেরত।”
সরোজ দে অর্থাৎ কালুবাবুর ‘কড়া ধাত’-এর জন্য যে সব শিল্পী ও টেকনিশিয়ানের সমস্যা হত তাঁদের জন্য ছিলেন সদাহাস্য ‘জয়ন্তদা'।
তাঁর ছবির তালিকায় রয়েছে 'যে যেখানে দাঁড়িয়ে', 'নগর দর্পণে', 'স্বাতী'র মতো বিভিন্ন ছবি। তাঁর শেষ ছবি 'কোনি'।
চন্দ্রাণী ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, উত্তমকুমার ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নকশাল আমলে যখন উত্তমকুমার বাংলা ছেড়ে প্রবাসে চলে যান তখন তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন জয়ন্ত ভট্টাচার্য। উত্তমকুমারের উপরে ওঁর লেখা ‘স্মৃতি সময় ও আমি’ প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসাবে সমাদ্রিত।
অশীতিপর জয়ন্ত ভট্টাচার্য শেষ জীবনে সঙ্গী করে নিয়েছিলেন বই ও সংবাদপত্রকে। তাঁর চারপাশে সঙ্গী হিসাবে দেখা মিলত পুদভকিনের লেখা বই, টডের রাজস্থান, আইজেনস্টাইনের সাক্ষাৎকারের কাটিং প্রভৃতি।
সুবর্ণ মিত্র আর্কাইভস গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁকে উত্তম মঞ্চে সম্মানিত ও সংবর্ধিত করছিলেন। তিনি চিরকালই ছিলেন প্রচারবিমুখ এবং বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি নিষ্ঠাবান।