
শেষ আপডেট: 3 February 2024 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্বাসনালিতে জমিয়ে বসেছিল আস্ত জোঁক। রক্ত শুষে নিচ্ছিল ধীরে ধীরে। এদিকে মহিলার তো প্রাণ যায় যায় দশা। শ্বাস নিতে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনই গলায় বেজায় ব্যথা। প্রথমে ব্যাপারটা বোঝা যায়নি। গলার কাছে কিছু দলা পাকিয়ে উঠছিল মাঝে মাঝেই। সেই সঙ্গে ঢোঁক গিলতে, খাবার খেতে কষ্ট হচ্ছিল। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে গেলে সেখানেই ডাক্তাররা পরীক্ষা করে আসল ব্যাপারটা ধরতে পারেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, শ্বাসনালিতে গত তিন দিন ধরে জোঁকটা আটকে ছিল। ফাইবার-অপটিক ল্যারিঙ্গোস্কোপি করেই বিষয়টা ধরা পড়ে। জোঁকটা জীবন্ত ছিল। সেটা ফুসফুসে না চলে যায়, এই আশঙ্কাই ছিল। এদিকে শ্বাসনালি থেকে টেনে বের করতে গেলে জোঁকটি আরও চেপে বসত গলায়। ফলে রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকত। তাই জরুরি অবস্থা ট্র্যাকিওস্টমি করে জোঁকটিকে বের করা হয়।
গরুবাথানের বছর চল্লিশের ওই মহিলা জানিয়েছেন, তিনি ঝর্না থেকে জল খাচ্ছিলেন। তখনই গলায় কিছু একটা আটকে যায়। প্রথমে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু পরে গলায় মারাত্মক যন্ত্রণা শুরু হয়। কাশি হচ্ছিল ক্রমাগত, খাবার গিলতে কষ্ট হচ্ছিল। দমবন্ধ হয়ে আসছিল। অস্বস্তি কাটাতে চিকিৎসকের কাছে যান তিনি৷ সেখানেই বিষয়টি ধরা পড়ে।
চিকিৎসকরা বলছেন, জোঁকটিকে বের করতে ট্রাকিওস্টমি করা হয়। এটি করে শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি স্বাভাবিক রাখা হয়। গলার একটু নিচের দিকে ফুটো করে ৮ মিলিমিটার ব্যাসের ‘ট্র্যাকিওস্টমি টিউব’ ঢোকানো হয় রোগীর কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস চালানোর জন্য। অস্ত্রোপচার চলার সময়েও রোগী যাতে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারে সেজন্য এই ব্যবস্থা করা হয়। শ্বাসনালিতে উইন্ডপাইপ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এই উইন্ডপাইপের কাজ হল শ্বাসপ্রশ্বাসকে স্বাভাবিক রাখা। ফুসফুসে যাতে বায়ু চলাচল করতে পারে তার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়। তারপর অপারেশনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। মহিলার অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।