দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি ও তেলঙ্গানার বাসিন্দার মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পরার পরেই উদ্বেগে স্বাস্থ্য দফতর। একেই বিক্ষোভের আগুনে অশান্ত রাজধানী, তারপরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর আতঙ্কে তুমুল শোরগোল পড়ে গেছে দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকায়। ইতালি-ফেরত দিল্লির বাসিন্দার থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওই ব্যক্তির ছেলেমেয়েরা যে স্কুলে পড়াশোনা করে, নয়ডার সেই স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে পরীক্ষাও।
স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বলছেন, ইতালি থেকে দেশে ফেরার পরেই জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হন ওই ব্যক্তি। তখনও ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েনি। গত সপ্তাহে তাঁর বাড়িতে জন্মদিনের বিশেষ অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠানে তাঁর ছেলেমেয়েরা ছাড়াও তাদের স্কুলের বন্ধুবান্ধব ও তাদের অভিভাবকরাও হাজির ছিল। সেখান থেকে কোনও শিশুর শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত নিমন্ত্রিতদের মধ্যে কারও জ্বর বা নিউমোনিয়ার সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে কিনা সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
বাচ্চাদের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নয়ডার স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ থেকে স্কুলে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরেই স্কুল খোলা হবে। তার আগে কোনওরকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণে চিনে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ছুঁইছুঁই। সেখানকার ন্যাশনাল হেল্থ কমিশনের রিপোর্ট বলছে, উহানে আরও ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। নতুন সংক্রামিত প্রায় ১২৫ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে, ৬৭টি দেশে সিওভিডি-১৯ সংক্রমণে পজিটিভ ৮২ হাজারেরও বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন হাজার।
হুবেই প্রদেশেই করোনা সংক্রমণের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিযে বাড়ছে। মোট সংক্রামিত ৬২ হাজারেরও বেশি। চিন, হংকং, তাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, বিশেষ থার্মাল স্ক্রিনিংযের পরেই দেশে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে পর্যটকদের। সামান্য সন্দেহ হলেই স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে আইসোলেশন ওয়ার্ডে। দেশের ২১টি বিমানবন্দর, ১২টি সমুদ্রবন্দরে বশেষ চেকআপ চলছে।