দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত দু'সপ্তাহ ধরে কর্ণাটকের বিদ্রোহী বিধায়করা রয়েছেন মুম্বইয়ের পাঁচতারা হোটেলে। স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠানোর পরেই তাঁদের চ্যাটার্ড বিমানে চড়িয়ে মুম্বইতে নিয়ে যাওয়া হয়। হোটেলে যাতে কংগ্রেস বা জেডি এসের কেউ ধুকতে না পারে সেদিকে কড়া নজর রেখেছে বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের পুলিশ। এইসময় এমএলএ কেনাবেচার গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও একবারও মুখ খোলেননি কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বাজুভাই বালা। কিন্তু আস্থাভোট নিয়ে বিধানসভায় বিতর্ক শুরু হতেই তিনি যেভাবে বার বার ভোটাভুটির জন্য তাড়া দিয়েছেন, তাতে অবাক হয়েছেন অনেকে।
তাড়া দেওয়ার কারণ হিসাবে রাজ্যপাল বলেছেন, অনেকে বিধায়ক কেনাবেচা নিয়ে অভিযোগ তুলছেন। এই অবস্থায় দ্রুত আস্থাভোট নেওয়া উচিত। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে এতদিন যখন শাসক জোটের বিধায়কদের মুম্বইয়ে রাখা হয়েছিল, রাজ্যপাল বিধায়ক কেনাবেচার কথা একবারও বলেননি কেন?
কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী বৃহস্পতিবার বিধানসভায় আস্থাভোটের প্রস্তাব পেশ করার পরেই বিজেপি ভোটাভুটির জন্য তাড়া দিতে থাকে। বিকেল নাগাদ বিজেপির এক প্রতিনিধিদল দেখা করে রাজ্যপালের সঙ্গে। তারপরেই রাজ্যপাল কুমারস্বামীকে চিঠি দিয়ে বলেন, এদিনের মধ্যে আস্থাভোট করা উচিত।
তা যখন হল না, তখন শুক্রবার রাজ্যপাল ফের চিঠি দিয়ে বলেন, আজ দেড়টার মধ্যে আস্থাভোট হোক। তাও যখন হল না, তখন তিনি অন্তত শুক্রবারের মধ্যে আস্থাভোট করতে বলেন। স্পিকার কে আর রমেশ কুমার সেকথাও মানেননি। তিনি দু'দিনের জন্য বিধানসভার অধিবেশন মুলতবি রেখেছেন।
রাজ্যপাল বার বার অনুরোধ করছেন এবং স্পিকার ও সরকার বার বার তাঁকে অমান্য করছে, গত ১৫-২০ বছরে অন্তত এর নজির নেই। তার ফলে আরও অন্তত দু'দিন টিকে গিয়েছে কর্ণাটকের কংগ্রেস-জেডি এস সরকার। সোমবারের আগে বিধানসভা বসবে না। আস্থাভোট হবে সোমবার অথবা তারও পরে।
আস্থাভোট দ্রুত করার জন্য বৃহস্পতিবার রাত থেকে সরকারকে দু'টি চিঠি দিয়েছেন রাজ্যপাল বাজুভাই বালা। প্রথম চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, অনেকে অভিযোগ করছেন, এমএলএ কেনাবেচার চেষ্টা হচ্ছে। আমি নিজেও এমন অভিযোগ পেয়েছি। সংবিধান মোতাবেক এই অবস্থায় দ্রুত আস্থাভোট নেওয়া উচিত। শুক্রবার বেলা দেড়টার মধ্যে ভোটাভুটি করুন।
সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীকে দ্বিতীয় চিঠিটি লেখেন। তাতে বলেন, অন্তত শুক্রবারের মধ্যে আস্থাভোট হোক। কুমারস্বামী রাজ্যপালকে কটাক্ষ করে বলেন, তাঁর 'দ্বিতীয় প্রেমপত্র' পেয়ে আমার মনে বড় ব্যথা লেগেছে। যাই হোক, আমরা স্পিকারকেই মেনে চলব। তিনি ভোটাভুটির আগে দীর্ঘ বিতর্ক চালাতে অনুমতি দিয়েছেন।
কর্ণাটক বিজেপির প্রধান বি এস ইয়েদুরাপ্পা দ্রুত আস্থাভোট নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। কুমারস্বামী তাঁকে বলেন, এত তাড়া কীসের। আমি ক্ষমতার অপব্যবহার করব না। আপনারা না হয় দু'দিন পরেই সরকার গড়বেন।
বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস-জেডি এস জোট ইচ্ছা করে আস্থাভোট পিছিয়ে দিচ্ছে। যে বিধায়করা বিদ্রোহ করেছেন, এই সুযোগে তাঁদের কয়েকজনকে সরকারপক্ষে টেনে আনার চেষ্টা হচ্ছে।
গত দু'সপ্তাহে কর্ণাটকে সরকার পক্ষের ১৮ জন বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁদের অনেকে আছেন মুম্বইয়ের এক পাঁচতারা হোটেলে। সেখানে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন কংগ্রেসের ট্রাবল শুটার বলে পরিচিত ডি কে শিবকুমার। কিন্তু পুলিশ তাঁকে হোটেলে ঢুকতে দেয়নি।
এর মধ্যে রামলিঙ্গ রেড্ডি নামে এক বিদ্রোহী বিধায়ককে বিধানসভায় দেখা গিয়েছে। তিনি ইস্তফার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। কুমারস্বামী তাঁর দীর্ঘ ভাষণে বলেছেন, সরকার পক্ষের এক একজন বিধায়ককে ৪০-৫০ কোটি টাকা দিয়ে নিজেদের পক্ষে টেনেছে বিজেপি। তিনি বিজেপিকে সতর্ক করে বলেন, আপনাদের বিচারের দিন আসছে।
২২৪ আসনবিশিষ্ট কর্ণাটক বিধানসভায় শাসক কংগ্রেস-জেডি এস জোটের ১১৮ জন বিধায়ক ছিলেন। বিদ্রোহীদের ইস্তফাপত্র যদি গৃহীত হয়, তাহলে সরকার পক্ষের বিধায়কের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০১। অন্যদিকে বিজেপির ১০৫ জন বিধায়ক আছেন। দুই নির্দল বিধায়ক তাঁদের সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন।