Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

‘গে জিন’ শুধুই কল্পনা! সমকামিতার জন্য জিন দায়ী নয়, নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্য বিজ্ঞানীমহলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমলিঙ্গে প্রেম বা সমকামিতা কি সত্যিই জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত? সমকামিতা ও জিনের অঙ্গাঅঙ্গি সম্পর্ক রয়েছে কি না সেই নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে চর্চা বহুদিনের। তর্ক-বিতর্কে নানা সময় উঠে এসেছে বিভিন্ন মতামত। গোটা বিশ্বের জিনতত্ত্ববিদেরাই

‘গে জিন’ শুধুই কল্পনা! সমকামিতার জন্য জিন দায়ী নয়, নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্য বিজ্ঞানীমহলে

শেষ আপডেট: 29 August 2019 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমলিঙ্গে প্রেম বা সমকামিতা কি সত্যিই জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত? সমকামিতা ও জিনের অঙ্গাঅঙ্গি সম্পর্ক রয়েছে কি না সেই নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে চর্চা বহুদিনের। তর্ক-বিতর্কে নানা সময় উঠে এসেছে বিভিন্ন মতামত। গোটা বিশ্বের জিনতত্ত্ববিদেরাই সমলিঙ্গে যৌন সম্পর্কের সঙ্গে জিনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত থাকার কারণ খুঁজেছেন। তাতে কখনও দাবি উঠেছে, জিনের ভেলকির কারণেই মানুষ সমকামী হয়, আবার কখনও জিনতাত্ত্বিকরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সমকামিতা কোনও ভাবেই জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। আসল সত্যিটা ঠিক কী, তা নিয়ে দ্বন্দ্বের অবসান এখনও হয়নি। তবে ফিনল্যান্ডের মলিকিউলার মেডিসিন, ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটাল এবং হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের জিনতত্ত্ববিদরা বলেছেন, সমকামিতা এবং জিনের মধ্যে দূরদূরান্তেও কোনও সম্পর্ক নেই। বহু বছরের পুরনো এই দাবির গোটাটাই কল্পনা মাত্র। ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) পরীক্ষার ফলাফলে তেমন চাঞ্চল্যকর কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সায়েন্স জার্নালে এই রিপোর্টটি প্রকাশিত হয় গত বৃহস্পতিবার। তার পরেই ফের নড়েচড়ে বসেন বিশ্বের তাবড় জিনতাত্ত্বিকরা। হার্ভার্ড বোর্ড অব ইনস্টিটিউটের গবেষক বেন নেয়ালের কথায়, ‘‘সমকামী জিন বা ‘গে জিন (Gay Gene)’ নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। দীর্ঘ বছরের পরীক্ষায় আমরা দেখেছি, সমকামিতা কোনও ভাবেই জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। হওয়াটাও অসম্ভভ।’’ তিনি আরও দাবি করেন, আগের মতামত মাফিক একক সমকামী জিন বা  ‘Single Gay Gene’ বলে কিছু হয়না। সমকামিতার জন্য দায়ী হতে পারে, পরিবেশ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, মানসিকতা বা অন্যান্য কারণ। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের জিনতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের প্রায় ৪ লক্ষ ৮০ হাজার সমকামী যুগলের জিন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে। দেখা গেছে, ৮ থেকে ২৫ শতাংশ পুরুষ তাঁদের স্বভাবজাত কারণে সমকামী হয়ে থাকে। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের অ্যানালিটিক্যাল ও ট্রান্সলেশনাল জেনেটিক ইউনিটের গবেষক আন্দ্রে গান্না জানিয়েছেন, যে জিনকে সমকামী জিনের তকমা দিয়ে এত হইচই হয়েছে, সেটি তার নির্ধারিত মাপের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি বড় এবং ছোট ছোট নানা জিনের সমষ্টি। অস্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ড ইউনিভার্সিটির জিনতত্ত্ববিদ ব্র্যান্ডেন জিৎস বলেছেন, একক সমকামী জিনের অস্তিত্ব নেই। পাঁচ রকম জেনেটিক ভ্যারিয়েশন দেখা গেছে যেখানে সমলিঙ্গে যৌন আকর্ষণের সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং, বলাই যায়, সমকামিতার জন্য একক জিন দায়ী নয়। [caption id="attachment_137348" align="aligncenter" width="600"] কোনও ‘গে জিন’ নেই। হার্ভার্ড ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ছবি[/caption] সমকামিতা এবং জিনের সম্পর্ক নিয়ে প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় ১৯৯০ সালে। ১৯৯৩ সালে আমেরিকার জিনতাত্ত্বিক ডিন হ্যামার কয়েকটি পরিবারের সমকামী পুরুষদের উপর পরীক্ষা চালিয়ে দাবি করেন, সমকামিতা ‘এক্স ক্রোমোজোমের’ তারতম্যের কারণে হয়। আমাদের শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়ার অধিকাংশই জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এর মধ্যে কিছু জিনের মুখ্য ভূমিকা থাকে যাদের বলে মার্কার (নির্দেশক)। গবেষকরা দাবি করেন, সমকামী পুরুষদের ১৩ এবং ১৪ নম্বর ক্রোমোজোমের মধ্যে ওই মার্কার জিনের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। ওই জিনই সমকামিতার জন্য দায়ী। এই গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় বিজ্ঞানীমহলে। ব্রিটিশ জিনতাত্ত্বিকরা দাবি করেন,  আরও অনেক, আরও বিশদে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই কোনও জিনকে ‘গে জিন’ বলে চিহ্নিত করা সম্ভব। পুরুষদের ক্ষেত্রে যে জিনকে দায়ী করা হয়েছে, মহিলাদের ক্ষেত্রে তার প্রভাব পৃথক হতেই পারে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্ট্যাটিস্টিকাল জেনেটিক্সের অধ্যাপক গিল ম্যাকভানের কথায়, যৌনতা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। পরিবেশ, অভিজ্ঞতা, সহজাত প্রবৃত্তি এবং কোনও ক্ষেত্রে শারীরিক গঠনের তারতম্যের কারণেও এর পরিবর্তন হওয়া সম্ভব। সুতরাং এর জন্য জিনকে দায়ী করা কোনও মতেই উচিত নয়।

```