
শেষ আপডেট: 29 August 2019 18:30
সায়েন্স জার্নালে এই রিপোর্টটি প্রকাশিত হয় গত বৃহস্পতিবার। তার পরেই ফের নড়েচড়ে বসেন বিশ্বের তাবড় জিনতাত্ত্বিকরা। হার্ভার্ড বোর্ড অব ইনস্টিটিউটের গবেষক বেন নেয়ালের কথায়, ‘‘সমকামী জিন বা ‘গে জিন (Gay Gene)’ নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। দীর্ঘ বছরের পরীক্ষায় আমরা দেখেছি, সমকামিতা কোনও ভাবেই জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। হওয়াটাও অসম্ভভ।’’ তিনি আরও দাবি করেন, আগের মতামত মাফিক একক সমকামী জিন বা ‘Single Gay Gene’ বলে কিছু হয়না। সমকামিতার জন্য দায়ী হতে পারে, পরিবেশ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, মানসিকতা বা অন্যান্য কারণ।
ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের জিনতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের প্রায় ৪ লক্ষ ৮০ হাজার সমকামী যুগলের জিন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে। দেখা গেছে, ৮ থেকে ২৫ শতাংশ পুরুষ তাঁদের স্বভাবজাত কারণে সমকামী হয়ে থাকে। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের অ্যানালিটিক্যাল ও ট্রান্সলেশনাল জেনেটিক ইউনিটের গবেষক আন্দ্রে গান্না জানিয়েছেন, যে জিনকে সমকামী জিনের তকমা দিয়ে এত হইচই হয়েছে, সেটি তার নির্ধারিত মাপের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি বড় এবং ছোট ছোট নানা জিনের সমষ্টি।

অস্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ড ইউনিভার্সিটির জিনতত্ত্ববিদ ব্র্যান্ডেন জিৎস বলেছেন, একক সমকামী জিনের অস্তিত্ব নেই। পাঁচ রকম জেনেটিক ভ্যারিয়েশন দেখা গেছে যেখানে সমলিঙ্গে যৌন আকর্ষণের সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং, বলাই যায়, সমকামিতার জন্য একক জিন দায়ী নয়।
[caption id="attachment_137348" align="aligncenter" width="600"]
কোনও ‘গে জিন’ নেই। হার্ভার্ড ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ছবি[/caption]
সমকামিতা এবং জিনের সম্পর্ক নিয়ে প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় ১৯৯০ সালে। ১৯৯৩ সালে আমেরিকার জিনতাত্ত্বিক ডিন হ্যামার কয়েকটি পরিবারের সমকামী পুরুষদের উপর পরীক্ষা চালিয়ে দাবি করেন, সমকামিতা ‘এক্স ক্রোমোজোমের’ তারতম্যের কারণে হয়। আমাদের শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়ার অধিকাংশই জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এর মধ্যে কিছু জিনের মুখ্য ভূমিকা থাকে যাদের বলে মার্কার (নির্দেশক)। গবেষকরা দাবি করেন, সমকামী পুরুষদের ১৩ এবং ১৪ নম্বর ক্রোমোজোমের মধ্যে ওই মার্কার জিনের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। ওই জিনই সমকামিতার জন্য দায়ী। এই গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় বিজ্ঞানীমহলে। ব্রিটিশ জিনতাত্ত্বিকরা দাবি করেন, আরও অনেক, আরও বিশদে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই কোনও জিনকে ‘গে জিন’ বলে চিহ্নিত করা সম্ভব। পুরুষদের ক্ষেত্রে যে জিনকে দায়ী করা হয়েছে, মহিলাদের ক্ষেত্রে তার প্রভাব পৃথক হতেই পারে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্ট্যাটিস্টিকাল জেনেটিক্সের অধ্যাপক গিল ম্যাকভানের কথায়, যৌনতা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। পরিবেশ, অভিজ্ঞতা, সহজাত প্রবৃত্তি এবং কোনও ক্ষেত্রে শারীরিক গঠনের তারতম্যের কারণেও এর পরিবর্তন হওয়া সম্ভব। সুতরাং এর জন্য জিনকে দায়ী করা কোনও মতেই উচিত নয়।