বীরভূমের সভা থেকে বাম আমলের রক্তাক্ত নানুর হত্যাকাণ্ডে ১১ জন তফসিলি জাতির মানুষের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রী জানান, সেই সময় মৃতদেহ ঢাকার জন্য ন্যূনতম একটি সাদা চাদর পর্যন্ত ছিল না—এই দৃশ্য তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। সেই চরম দারিদ্র্য ও অসহায়তা দেখেই গরিব মানুষের শেষকৃত্যে পাশে দাঁড়াতে 'সমব্যথী' প্রকল্পের কথা ভেবেছিলেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 13 April 2026 15:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটপ্রচারে (West Bengal Assembly Election 2026) গিয়ে বারবারই মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) বক্তব্যে ফিরে আসে পুরোনো লড়াই আর যন্ত্রণার ইতিহাস। সোমবার বীরভূমের (Birbhum) সিউড়ির (Suri) প্রচারসভা থেকে তেমনই এক যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতির কথা মানুষের সামনে তুলে ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম জমানার সেই হাড়হিম করা নানুর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে মমতা জানালেন, কেন তাঁর সরকার ‘সমব্যথী’ প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
সিউড়ির সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ানে উঠে এল সেই ভয়াবহ স্মৃতির কথা। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "নানুরে ১১ জন তফসিলি জাতির মানুষকে খুন করা হয়েছিল।" সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। নেত্রীর কথায়, "আমার এক কর্মী এসে তখন বলেছিল, ওদের মৃতদেহে দেওয়ার জন্য একটা সাদা চাদর পর্যন্ত ছিল না।"
সেখান থেকেই সমব্যথী প্রকল্পের ভাবনা তাঁর মাথায় আসে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা জানান, সেই অভাব আর হাহাকার দেখেই তাঁর মন কেঁদে উঠেছিল। স্বজনহারা পরিবারের অসহায়তা দেখে তখনই তিনি স্থির করেছিলেন, গরিব মানুষের শেষকৃত্যের জন্য পাশে দাঁড়াতে হবে সরকারকে। তাঁর কথায়, "তখনই ভেবেছিলাম সমব্যথীর কথা।"
কী এই প্রকল্প? তৃণমূল সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবিক প্রকল্প এই 'সমব্যথী'। কোনও দরিদ্র পরিবারের সদস্যের মৃত্যু হলে তাঁর শেষকৃত্যের খরচ হিসেবে পরিবারের হাতে নগদ ২ হাজার টাকা তুলে দেয় রাজ্য সরকার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বীরভূমের মাটি থেকে নানুরের সেই বিতর্কিত ও রক্তাক্ত অধ্যায়কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা একদিকে যেমন বাম আমলের ‘সন্ত্রাস’ নিয়ে সরব হলেন, তেমনই তাঁর সরকারের জনহিতকর প্রকল্পের নেপথ্যে থাকা ‘আবেগ’কেও ভোটারদের সামনে তুলে ধরলেন।
সিউড়ির সভা থেকে সমব্যথীর পাশপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তৈরির ইতিহাসের কথা শুনিয়েছেন মখ্যমন্ত্রী। সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "যখন নোটবন্দি করে মা-বোনদের সঞ্চিত ধন কেড়ে নিয়েছিল। লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক মানুষ মারা গিয়েছেন। তারপর আমি ভাবলাম মা-বোনদের হাতে কিছু থাকা উচি। তাই ব্যাঙ্কের মাধ্যমে আপনাদের কাছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাঠানো হয়।"
সভা থেকে সিপিআইএম এবং বিজেপি দুই দলকেই বিঁধে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, "আগে সিপিআইএম খুব জ্বালিয়েছে। অনেক মার খেয়েছি। আর গত ১২ বছরে এরা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাচ্ছে। বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার নাম করে ‘মন কী বাত’-এর নামে বাচ্চাদের মাথা খাচ্ছে।"