দুই বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভ এবং এক মহিলা প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তোলপাড় সীমান্ত শহর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হিমশিম খেলে শেষ পর্যন্ত এলাকায় টহল দিতে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

বিজেপি প্রার্থী সাবিত্রী বর্মণ
শেষ আপডেট: 13 April 2026 14:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের আগে (West Bengal Assembly Election 2026) উত্তরবঙ্গের শীতল হাওয়া ছাপিয়ে কোচবিহারের (Cooch Behar) রাজনীতি এখন উত্তপ্ত। রবিবার সন্ধ্যায় মাথাভাঙায় বিজেপি (BJP) ও তৃণমূলের (TMC News) সংঘর্ষে উত্তজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছল। দুই বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভ এবং এক মহিলা প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তোলপাড় সীমান্ত শহর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হিমশিম খেলে শেষ পর্যন্ত এলাকায় টহল দিতে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
প্রচার ঘিরে বিবাদের সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে খবর, মাথাভাঙার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে গিয়েছিলেন ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক। অভিযোগ, প্রচার চলাকালীন নিশীথকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা। বচসা থেকে শুরু হয় হাতহাতি। সংঘর্ষে তৃণমূলের এক কাউন্সিলর-সহ বেশ কয়েক জন আহত হন। এর প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে ঘাসফুল শিবির।
সাবিত্রীর গাড়িতে ভাঙচুর
ঠিক সেই সময়েই মাথাভাঙা থানার সামনে দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন শীতলখুচি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সাবিত্রী বর্মণ। অভিযোগ, উত্তেজিত তৃণমূল কর্মীরা সাবিত্রীর গাড়িতে চড়াও হন এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালান। সাবিত্রীর দাবি, পুলিশের সামনেই এই হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, “একজন মহিলা প্রার্থীর ওপর এভাবে আক্রমণ প্রমাণ করে দিচ্ছে শাসকদল কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছে।”
নিশীথের পাল্টা হুঁশিয়ারি
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে নিশীথ প্রামাণিক জানান, পুলিশের দেওয়া নির্দিষ্ট রুট মেনেই তাঁরা প্রচার করছিলেন। হঠাৎ করেই তৃণমূল কর্মীরা তাঁদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “ওরা যদি পাথর ছোড়ে, আমরা তো আর ফুল ছুড়ব না! এর পর এমন বদমায়েশি করতে এলে কী হবে, সেটা ওরা কল্পনাও করতে পারছে না।”
তৃণমূলের মৌনতা ও যুক্তি
পুরো ঘটনা নিয়ে মাথাভাঙার তৃণমূল প্রার্থী সাবলু বর্মণ বা জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মণকে ফোন করা হলেও তাঁদের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এলাকা অশান্ত করতে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তৃণমূল কর্মীরা কেবল সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন।