শবরীমালায় যাওয়ার জন্য বিশেষ কোনও নিরাপত্তা মিলবে না মহিলাদের, জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শবরীমালা মন্দিরে যেতে চাওয়া মহিলা সমাজকর্মীদের কোনও বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। নিজের দায়িত্বেই মহিলাদের প্রবেশ করতে হবে মন্দিরে। শুক্রবার এমনটাই জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
সমাজকর্মী রেহনা ফাতিমা এবং বিন্দু আম্মানি শবরীমা
শেষ আপডেট: 13 December 2019 09:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শবরীমালা মন্দিরে যেতে চাওয়া মহিলা সমাজকর্মীদের কোনও বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। নিজের দায়িত্বেই মহিলাদের প্রবেশ করতে হবে মন্দিরে। শুক্রবার এমনটাই জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
সমাজকর্মী রেহনা ফাতিমা এবং বিন্দু আম্মানি শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশের জন্যে নিরাপত্তা পাওয়ার জন্যে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশের সময়ে কেরালা সরকার যাতে নিরাপত্তা দেয়, সে বিষয়ে কেরালা সরকারকে নির্দেশ দিতে। কিন্তু শুক্রবার কেরালা সরকারকে আদেশ দেওয়ার সেই আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার জন্য বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা দেওয়ার কোনও আদেশ এখনই পাশ করা যাবে না।
বিচারপতি এসএ বোবদে বলেন, "শবরীমালা নিয়ে যে রক্ষণশীল প্রথা রয়েছে, তা বহু পুরনো। এই মুহূর্তে যেহেতু পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে রয়েছে, তাই এমন কিছু আমরা করতে পারব না, যা হিংসাত্মক পরিস্থিতি ডেকে আনে। ফলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এখনই কোনও আদেশ দেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি আপাতত বিবেচনাধীন, সিদ্ধান্ত হলে সুরক্ষার চেষ্টা করা হবে।"
সুপ্রিম কোর্টের এই ঘোষণার আগেই কেরালা সরকারও প্রায় একই সুরে জানিয়ে দিয়েছিল, শবরীমালা মন্দির কোনও আন্দোলন করার জায়গা নয়, ফলে এখানে কোনও আন্দোলন-বিক্ষোভ মেনে নেওয়া হবে না। কোনও নিরাপত্তাও দেওয়া হবে না। এর পরেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন ওই দুই মহিলা সমাজকর্মী।

গত বছর শবরীমালায় মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিপুল তুলকালাম হয়। সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায় দিয়ে জানায়, সব বয়সের মহিলাই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন। রায় পুনর্বিবেচনা করার আবেদন করেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয় যে এই মন্দিরের দেবতা এক জন "ব্রহ্মচারী" এবং "শতাব্দী প্রাচীন বিশ্বাস" চালু রয়েছে এখানে যে এই মন্দিরে রজঃস্বলা মহিলারা প্রবেশ করলে ক্ষুব্ধ হবেন আয়াপ্পাদেব।
এর পরেই বড় আন্দোলনের চেহারা নেয় শবরীমালা। সহিংস বিক্ষোভ ঘনিয়ে ওঠে। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে প্রাণও হারান একাধিক মানুষ। এখন ওই পুনর্বিবেচনার আবেদন সাত বিচারপতির একটি বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সে নিয়ে যতক্ষণ না নতুন রায় আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সব বয়সের মহিলাদেরই প্রবেশ করার অধিকার থাকছে শবরীমালায়।
কিন্তু আইনত অধিকার থাকলেও, বাস্তবিক পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। প্রায়ই বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে মহিলাদের। সম্ভাবনা রয়েছে আক্রমণেরও। সে কথা ভেবেই আলাদা করে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন সমাজকর্মী রেহনা ফাতিমা এবং বিন্দু আম্মানি।