বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার কোনও প্রস্তাব দেননি, বললেন জেএনইউর উপাচার্য
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাময়িক ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার কোনও প্রস্তাব জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনএউ) পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে দেখা করে এসে একথা বলেন জেএনইউর উপাচার্য এম জগদেশ কুমার। মন্ত্রকের সঙ
শেষ আপডেট: 8 January 2020 11:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাময়িক ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার কোনও প্রস্তাব জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনএউ) পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে দেখা করে এসে একথা বলেন জেএনইউর উপাচার্য এম জগদেশ কুমার। মন্ত্রকের সঙ্গে তিনি বুধবার দেখা করেছেন।
জেএনইউ ক্যাম্পাসে রবিবার বহিরাগতদের তাণ্ডবের পরে সাময়িক ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়েছিল সংবাদসংস্থা পিটিআই। সেব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে উপাচার্য এম জগদেশ কুমার বলেন, “আমরা এই ধরনের কোনও প্রস্তাব দিইনি।” পরে তিনি বলেন, “এনিয়ে আর কোনও কিছু হচ্ছে না, ছাত্রছাত্রীদের উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
জেএনইউ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের তাণ্ডবের পর থেকেই এব্যাপারে দায়ী করা শুরু হয়েছে উপাচার্যকে। কারণ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে এতজন বহিরাগতর ঢোকা সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষে রয়েছেন উপাচার্য। কোনও ভাবে যদি বহিরাগতরা ঢুকেও পড়ে, তাণ্ডবের সময় কেন উপাচার্য পুলিশ ডাকলেন না সে প্রশ্নও উঠছে। অতজন ছাত্রছাত্রী ও অধ্যাপিকাকে আঘাত করে দুষ্কৃতীরা কী ভাবে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে গেল সেউ প্রশ্নও উঠেছে।

রবিবারের হামলার পরে মঙ্গলবার থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন অধ্যাপিকা সুচরিতা সেন। এফআইআরে তিনি অভিযোগ করেছেন, মারাত্মক সব অস্ত্র, লাঠি ও রড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকেছিল বহিরাগতরা। এফআইআরে তিনি জানিয়েছেন, প্রথমে একটি পাথরের আঘাতে তিনি আহত হন, পাথরটি এসে তাঁর কাঁধে লাগে এবং তারপরে সম্ভবত তার চেয়েও একটি বড় পাথর এসে লাগে তাঁর হাতে। তখনই তিনি মাটিতে পড়ে যান, রক্ত বেরতে শুরু করে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষও। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হামলার ঘণ্টাখানেক আগেই অচেনা লোকের জমায়েত নিয়ে তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন ঐশী। তাঁর অভিযোগ, তার পরেও এব্যাপারে কোনও হস্তক্ষেপই করেনি পুলিশ। উপাচার্য এম জগদেশ কুমারকেও এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন ঐশী।
রবিবার সন্ধ্যায় জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশেনর (জেএনইউটিএ) সদস্যরা শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদের জন্য জড়ো হচ্ছিলেন, তখনই হামলা শুরু হয়। ক্যাম্পাসে তাণ্ডব করতে শুরু করে মুখঢাকা লোকজন। ঐশী বলেন, “পড়ুয়াদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত ওই শান্তিপূর্ণ জমায়েতে আমরা যোগ দিচ্ছিলাম, সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছিলাম। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুখঢাকা গুন্ডারা সবরমতী হস্টেলের বাইরে আমাদের টার্গেট করে। লোহার রড দিয়ে আমার উপরে হামলা করা হয়েছিল।”